December 6, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

গরমে মেকআপ ও খাদ্য তালিকা

ডেস্ক প্রতিবেদন : দেশের বর্ধিত জনসংখ্যার সাথে তাল মিলিয়ে তাপমাত্রাও যেন বেড়েই চলছে। মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে এই গরমে। তাই যত বেশি সময় বাসায় থাকা যায়, ততই যেন মঙ্গল। ঘরের বাইরে পা দিলেই যত বিপত্তি। কর্মব্যস্ত জীবনে রূপ চর্চা করাও সম্ভব হয় না। এই গরমে খাবার নিয়েও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। খাবারের তালিকা তৈরিতেও যতটা সম্ভব সতর্ক থাক জরুরি।

জেনে নিন, তীব্র গরমে রূপ চর্চা এবং খাবারের তালিকা কেমন হওয়া উচিত –
নিত্যনতুন প্রসাধনী, রূপচর্চার ধারণার কারণে এই বিষয়গুলো এখন অনেকেরই স্বাভাবিক কাজের অংশ। গরমের মেকআপে হালকা অয়েল-ফ্রি ধরনের কসমেটিকস ব্যবহার করুন। ভুলেও ভারী মেকআপ করা উচিত নয়।

রোদের তাপ থেকে ত্বক বাঁচাতে বের হওয়ার আগে বরফ দিয়ে হালকা ম্যাসেজ করুন। রোদে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করবেন। সানস্ক্রিনের সুফল পেতে এর সাথে ফাউন্ডেশন মিশিয়ে নিলে ভালো হয়। ক্রিমজাতীয় প্রসাধনীর পরিবর্তে পাউডার জাতীয় কসমেটিকস ব্যবহার করা উত্তম।

সৌন্দর্য সাবান বা আলাদা ক্লিনজার, স্ক্রাব ব্যবহার করলে গরমে ত্বক পরিষ্কার রাখা যায়। ফ্লাওয়ার বেজড স্কিন টনিক যেমন ল্যাভেন্ডার বা রোজ স্কিন টনিক (গোলাপ জল) ফ্রিজে রেখে তুলা দিয়ে মুখে লাগালে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে।

ঠোঁটে লিপ লাইনারের পরিবর্তে হালকা গোলাপি বা ব্রাউন অর্থাৎ কোনো ন্যাচারাল কালার লিপ কালার ব্যবহার করতে পারেন।
এমন হালকা মেকআপ নেওয়া হলে নিশ্চিতভাবেই এই গরমে আপনার ত্বকের আর্দ্রতা ঠিক থাকবে। আপনি সাবলিলভাবে প্রতিটি কাজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। খুব সহজে ক্লান্তি আসার সম্ভাবনাও নেই।

আরামদায়ক, ঢিলেঢালা, সাদা বা অন্য হালকা রঙের পোশাক পরিধান করুন। কালো পোশাক রোদে গরম বাড়িয়ে দেয়। তাই এটি বর্জন করা ভালো।

বাইরে থেকে এসেই স্বাভাবিক পানিতে মুখ ধুয়ে ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। বারবার মুখ ধুয়ে ত্বকের ধুলাবালি, তেল, রোগজীবাণু পরিষ্কার হয়ে যাবে।

খাবারের তালিকায় আপনি প্রথমেই রাখতে পারেন প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ পানি এবং পানি জাতীয় খাদ্য। নিয়মিত তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার পানি পান করলে ভালো হয়। এর পাশাপাশি ডাবের পানি, শরবত, ফলেররস, জুস, লাচ্ছি, কোল্ড-হালকা গরম চা অথবা কফি, হালকা গরম পাতলা স্যুপ, কোমল পানীয় এবং স্যালাইনের পানি পান করলে শরীরের জন্য ভালো।

সকালে নাশতা হিসেবে দই-চিড়া, আম, ছোলা ভেজানো, ছোলার ছাতু, রুটি, পাউরুটি, ভাত, ডাল বা তরকারি এবং গ্রীষ্মকালীন ফল খেলে ভালো হয়।

গরমে দুপুরে হালকা কিছু খাওয়া ভালো। তবে ভারি খাবারে অভ্যস্ত তাদের জন্য ভাত, শাক-সবজি, ছোট-বড় মাছের হালকা রান্না, ডাল, মাংস, ডিম ইত্যাদির সাথে সালাদ থাকলে ভালো হয়।

দুপুরে হালকা খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন প্রচুর পরিমাণ ফল। যেমন- তরমুজ, আম, কাঁঠাল, শসা, কলা, লিচু, জামরুল খাবেন।

সন্ধ্যায় শরবত বা চা-কফির পাশাপাশি- তরমুজ, জামরুল, শসা খেতে পারেন। গরমে রাতের খাবার হবে খুবই সহজ। ভাত বা রুটি, সঙ্গে মাছ, সবজি, ডাল বা দুধ-আম খেতে পারেন অল্প পরিমাণে।

যদি আপনার অভ্যাস থাকে তবে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধ বা পানি বা হালকা শরবত পান করুন।

গরমকালে পোলাও বা বিরিয়ানি কম খাওয়া ভালো। ওভার লোডিং করা যাবে না এবং পরপর কয়েক বেলা খাওয়া ঠিক হবে না।

রান্নায় তেল দিবেন পরিমাণ মতো, কিন্তু মসলা পরিমাণে কম দিলে ভালো হয়। প্রতি বেলায় সালাদ খাওয়া যাবে। মাঝে-মাঝে আইসক্রিম খাওয়া যায়। তবে ঘর্মাক্ত অবস্থায় আইসক্রিম না খেয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় বা সন্ধ্যার পর খেলে ভালো হয়।