September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

স্মার্টনেস ধরে রাখতে ছেলেরা যা করবেন

ডেস্ক প্রতিবেদন : শুধু পুরুষের জন্য নয়, সব মানুষের জন্যই যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আমাদের স্মার্টনেস ধরে রাখাটাও সমান জরুরি। স্মার্টনেস না থাকলে মানুষের অপছন্দের তালিকায় জায়গা হতে পারে। অপরিচ্ছন্ন পোশাক, চলাফেরায় এলোমেলো ভাব, কথাবার্তা অগোছালো ইত্যাদির কারণে আপনি অন্যের বিরক্তির কারণ হতে পারেন। তাই সবক্ষেত্রেই স্মার্টনেস ধরে রাখা জরুরি-

১. কর্মক্ষেত্রে কাজ করার সঙ্গে প্রয়োজন সুন্দর পরিশীলিত ব্যক্তিত্ব। একটা সময় ছিল যখন অফিসের কাজটাই ছিল মুখ্য, সেখানে পোশাকের দিকে সেভাবে গুরুত্ব না দিলেও চলত। কিন্তু সময় এখন বদলে গেছে, স্মার্ট পুরুষরাই এখন অন্যদের পছন্দের তালিকায়। চাকরির ক্ষেত্রে ছেলেরা ফর্মাল শার্ট পরতে পারেন।

২. বেশি পকেট বিশিষ্ট ব্যাগ ব্যবহার করাই ভালো, এতে আলাদা পকেটের কারণে সহজেই প্রয়োজনীয় জিনিস পাবেন খোঁজাখুঁজি ছাড়াই।এভাবে কর্মজীবী হিসেবে নিজের স্মার্টনেস ধরে রাখতে পারবেন।

৩. সবসময় ফরমাল বা খুব দামি পোশাক পরে সেজেগুজে থাকলেই স্মার্টনেস থাকবে এমনটা ঠিক নয়। তবে একদম অপরিষ্কার থাকলেও চলবে না। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি থাকতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে আপনার শরীরের দুর্গন্ধে যেন অন্যের সমস্যা না হয়।

৪. অপ্রয়োজনে ফালতু কথা না বলাই ভালো। বেশি কথা বললে স্মার্টনেস বাড়ে না, বরং পরিস্থিতি মোতাবেক প্রয়োজনের সময় জোরালো কথা বলতে হবে। অপ্রাসঙ্গিক কথা বা মন্তব্য আপনার ব্যক্তিত্বকে খাটোই করবে।

৫. ফেসবুকের একটি কমেন্টও আপনাকে অন্যদের কাছে ছোট করে ফেলতে পারে। তাই যুক্তিবিহীন কথা না বলাই ভালো।

৬. স্মার্টনেস বাড়াতে গিয়ে আবার ভুলেও ভাব ধরে মুড নিয়ে চলাফেরা করবেন না, ওই আলগা ভাব আপনার স্মার্টনেস অনেক কমিয়ে দেবে।

৭. কাউকে অনুকরণ করে চলাফেরা করবেন না, নিজের চলাফেরার স্টাইল বজায় রাখুন। আপনার স্টাইল যে কাউকেই মুগ্ধ করতে পারে, কারণ প্রতিটি মানুষের চলাফেরার মধ্যেই রয়েছে ভিন্নতা। আর কাউকে অনুকরণ করতে গিয়ে ওই ভিন্নতা হারিয়ে ফেলা ঠিক হবে না।

৮. অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করাই ভালো, আপনার ব্যক্তিগত বিষয়ে কেউ হস্তক্ষেপ করলে তা আপনারও ভালো লাগবে না। অতএব কারও ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলিয়ে নিজের স্মার্টনেসের বারোটা বাজানোর মানে হয় না।

৯. মানুষ হিসেবে যে সম্মান আপনি অন্যদের কাছ থেকে আশা করেন সে সম্মান অন্যদেরকেও দিয়ে চলতে হবে। আপনার সবকিছুই ঠিক আছে কিন্তু কাউকে সম্মান দিতে শিখেননি, তাহলে স্মার্টনেস ধরে রাখা কষ্টকর হবে।

১০. কেউ অন্যায় করলেও তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে ঠান্ডা মাথায় সমস্যাটা বুঝিয়ে দিলেই আপনার স্মার্টনেস বৃদ্ধি পাবে। ধূমপান যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি রাগারাগি বা উত্তেজিত হয়ে কথা বলা আপনার স্মার্টনেসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

১১. সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলার অভ্যেস করতে হবে। আপনি সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বললে যে কেউ আপনার কথা মানতে বাধ্য থাকবে। কারও কৃতিত্বকে হিংসা না করে প্রশংসা করুন। এতে অন্যদের কাছে আপনার পার্সোনালিটি অনেক উপরে উঠে যাবে।

১২. এছাড়াও স্মার্টনেস ধরে রাখতে হলে কিছু খাবারও আপনাকে রুটিন মেনে খেতে হবে, যেগুলো আপনার স্মার্টনেস বাড়াতে সাহায্য করবে। অনেক খাবার আছে যা মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং স্মৃতিশক্তি ভালো করে।

১৩. বেশিরভাগ মানুষই একটা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। কিছুই মনে রাখতে পারেন না। আপনারও যদি এমন সমস্যা থাকে তাহলে আজ থেকেই রোজকার খাবারে তেলসমৃদ্ধ মাছ রাখুন। শাক-সবজিতে ভিটামিন সি ও বিটা ক্যারোটিন থাকে যা শরীরের পক্ষে খুবই ভালো।

১৪. ডিমে আয়রন লাল রক্তকণিকা তৈরি করতে সাহায্য করে, যা মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। দিনে অন্তত দু’বার গ্রিন-টি খেতে পারেন তাহলে স্মৃতিশক্তি ভালো থাকবে। মস্তিষ্কের জন্য উপকারী ডার্ক চকোলেটও খেতে পারেন।