December 6, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এপ্রিল মাসে এ মূল্যস্ফীতির হার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও এ ঊর্ধ্ব ধারা শুরু হয়েছে গত জানুয়ারি মাসে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। যা মার্চে ছিল ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ।

বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সংবাদ সম্মেলন করে মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এসব তথ্য প্রকাশ করে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর পরিকল্পনা কমিশনের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে এ তথ্য প্রকাশ করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল।

মূল্যস্ফীতির হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়া প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত এবারের পহেলা বৈশাখ ধূমধাম করে উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটিতে নতুন শাড়ি কেনা হয়েছে ও ইলিশ মাছ খেতে হয়েছে। এ পণ্য দু’টি বৈশাখে বাড়তি দামে কিনেছি আমরা। যে কারণে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমার বাড়িতে খাওয়ার লোক কম, তবুও কয়েকজন বৈশাখে ইলিশ মাছ নিয়ে এসেছিলেন। আমি কিছু চাল ভাগাভাগি করে রান্না করে খেয়েছি। বৈশাখে ছোট ছোট মেয়েরাও নতুন শাড়ি পরেছে। তারা বলে, আমাকেও নতুন কাপড় পরতে হবে।

মার্চ মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ, এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তবে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যে মাসওয়ারি মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা নিম্নমুখী। মার্চে এ খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ১২ শতাংশ, এপ্রিলে তা সামান্য কমে হয়েছে ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ।

বিবিএসের দেওয়া মূল্যস্ফীতির হ্রাস-বৃদ্ধি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে- মাছ, মাংস, শাক-সবজি, ফল, দুধ ও দুগ্ধজাতীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধির কারণে মাসিক ভিত্তিতে খাদ্য সামগ্রী উপ-খাতে মূল্যস্ফীতির হার উর্ধ্বমুখী।

তবে পরিধেয় বস্ত্র, বাড়িভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালি, আসবাবপত্র, চিকিৎসা সেবা, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণ এবং বিবিধ সেবা খাতের দাম কিছুটা কমায় এ খাতে মূল্যস্ফীতির হার নিম্নমুখী হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, আপতত মূল্যস্ফীতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা অর্থ বছরের শুরুতে বলেছিলাম মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশ থাকবে, সেভাবেই আছি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সাড়ে ৬ শতাংশের ওপরে থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, পরিকল্পনা সচিব সফিকুল আজম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের (সিড) সচিব কানিজ ফাতেমা, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য আরাস্ত খান ও বিবিএসের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক বাইতুল আমীন ভূঁইয়া প্রমুখ।