September 17, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

চলো মোরা মনের সুখে কচু বনে যাই!

গোলাম মাওলা রনি : কইরে আমার রনি-মাহি-সাকি-কাফি ভাই, চলো মোরা মনের সুখে কচু বনে যাই! জোসনা রাতে কচু বনে কচুর লতি খুঁজি, মন পবনে পাল তুলিয়া ধ্যাংতা ধ্যাংতা নাচি!

সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে কবিতার ছন্দে আর নয় – বরং গদ্য রীতিতে কিছু কথা বলি। দেশের রাজনীতির অঙ্গনের পরিচিত চার যুবক প্রচলিত প্রথা ভেঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়েছিলো। স্বাধীনতার পর আজ অবধি কেউ ওমনটি করেনি যেমনটি করেছিলো রনি, মাহি, সাকি কিংবা কাফি। সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনে আমরা চারজনই জামানত হারিয়েছি। এই অবস্থায় নিজেদের দূর্দশা দেখে যতটা না কষ্ট পাচ্ছি তার চেয়ে বেশী বেদনা হত হচ্ছি শিক্ষিত মধ্যবৃত্ত সম্প্রদায় এবং সুশীল সমাজের দৈন্যতা দেখে।

সমাজের কোন বিবেকবান মানুষ একটু মাথা উঁচু করে বলছে না যে, ২৮ তারিখে সত্যিকার অর্থে কোন নির্বাচন হয়নি। তারা একথাও বলছে না যে, সঠিক মতো নির্বাচন হলে প্রত্যয়ী যুবকেরা অধিক ভোট পেতো কিংবা তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হতো না। কেউ যেমন বলছেনা যে, যুবকেরা অন্যান্য প্রার্থী থেকে অযোগ্য আবার তেমনি যোগ্য বলতেও সাহসী হচ্ছে না।

একটি সমাজ মরে যায় কেবলমাত্র শিক্ষিত বিবেকবান মানুষের ভীরুতা, স্বার্থপরতা, অলসতা এবং মুখ বুজে অন্যায় সহ্য করার সীমাহীন ক্ষমতার জন্য। আমাদের পক্ষে প্রচলিত রাজনীতির সঙ্গে মিশে যাওয়া যেমন সহজ ছিলো তেমনি আরো সহজ ছিলো নিজেকে নিয়ে স্বার্থপরদের মতো ব্যস্ত থাকা। কিন্তু অর্ন্তনিহিত বিবেক, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দুঃখ দূর্দশা এবং নিজেদের শিক্ষা-দীক্ষা এবং বোধ-বুদ্ধির কারণে সেটা সম্ভব হয়নি । আর আগামী দিনে সম্ভব হবে বলেও মনে হবে না।

দলকানা লোকেরা নিয়ত তিরস্কার করে বলছে – আমাদের উচিত কচু গাছের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে মরা। দলের বাইরে আমাদের যে দু’পয়সার মূল্য নেই একথা যেমন তারা জোর দিয়ে বোঝাতে চাচ্ছে তেমনি বোঝাতে চাচ্ছে – দল চাইলে অর্বাচিন প্রাচীন হয়ে যায়- লুটেরা হয়ে যায় সাধু- সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দখলদার হয়ে যায় জনগনের আমানতদার এবং খুনী, জুলুমবাজ এবং নারী নির্যাতনকারীরা হয়ে যায় শান্তির দূত।

এই অবস্থায় আমাদের কি করা উচিত ? আমরা কি আগের মতো এগিয়ে যাবো নাকি কচু বনে চলে যাবো ? কচু বনে গিয়ে জোসনা রাতে মেলা মেলাবো। ছ্যাঙ্গা বাবু, বল্লা কাদের, রামদা মিজান কিংবা চাপাতি মিলনের নিকট থেকে ট্রেনিং নেবো। তারপর জানবো কি করে অন্যের বাড়ী দখল করা যায় ? কি করে অন্যের ঘর ভেঙ্গে ৪/৫ টা বিয়ে করা যায় এবং মামলা- হামলা করে কিভাবে প্রতিপক্ষকে ঠেঙ্গানো যায় ? এরপর কচু বাবার দরবারে গিয়ে পরীক্ষা দেবো এবং কচু দেবতার আরাধনা করবো। সবশেষে সিদ্ধি লাভ করে ফিরে আসবো লোকালয়ে। চারিদিকে ধন্য ধন্য রব পড়ে যাবে। শত বা সহস্র নয় কচু পুত্রদেরকে বরন করার জন্য এই নগরে গঠিত হবে লক্ষ নাগরিকের কমিটি। বিজয়ী কচু পুত্রগণ কচু ফুলের মালা গলায় দিয়ে কচু ভবনে প্রবেশ করবে- আর লক্ষ নাগরিকের বিশাল কমিটি কচু হাতে তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবে।

লেখক : রাজনীতিবিদ ও কলামিস্ট।