September 19, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত বিল পাস

কলকাতা প্রতিনিধি : ভারতের রাজ্যসভায় বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তি বিল পাস হয়েছে। বুধবার বিকেলে দেশটির রাজ্যসভায় বিলটি পাস হয়।

ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বুধবার দুপুরে বিলটি উত্থাপন করেন।

দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা বিলটির ওপর আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে স্থানীয় সময় ৪টা ৩২ মিনিটে ১৭৮ সংসদ সদস্যের ভোটে বিলটি পাস হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনীসহ বিলটি পাস হল।

এর ফলে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ছিটমহল বিনিময় সম্ভব হল। এর আগে, গত মঙ্গলবার বিলটি পাসে অনুমোদন দেয় ভারতীয় মন্ত্রিসভা।

রাজ্যসভায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সিপিএমের সদস্য ঋতুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমাদের দল শুরু থেকে ঐতিহাসিক এই বিল নিয়ে কথা বলে আসছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও সেখানকার (ছিটমহলের) মানুষ আজও কোনো রাষ্ট্র পায়নি। তাই এই চুক্তি হওয়া খুব জরুরী। এই ঐতিহাসিক চুক্তি বাস্তবায়িত হলে চ্যাম্পিয়ন হবে মানবিকতা আর সেরা খেলোয়াড় হবে ভারত। আমরা সেই সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।’

একই বিধানসভার কংগ্রেসের সদস্য প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘কংগ্রেস সরকার ছিটমহলের বাসিন্দাদের দুঃখ-কষ্ট বুঝে চুক্তি করেছিল। সেখানকার ছেলেমেয়ে এবং বাসিন্দারা পড়াশোনা, চিকিৎসার জন্য ভারত অথবা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঢুকলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের হাতে গ্রেফতার হতে হয়। এটা এমন একটা পরিবেশ যে, সেখানে মাটি আছে কিন্তু দেশ নেই।’

ওডিশা বিধানসভার বিজেডির সদস্য বৈষ্ণব পারিধা বলেন, ‘ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেলেও কেন ছিটমহলবাসীরা দেশ পাবে না?’

মহারাষ্ট্র বিধানসভার শিবসেনার এক সদস্য বলেন, চুক্তিতে আপত্তি নেই, কিন্তু অনুপ্রবেশ বন্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।

আসাম বিধানসভার কংগ্রেসের সদস্য ভুবনেশ্বর কৈরালা বলেন, ‘আসামকে বাদ দিয়ে বিল পাস করালে তা অসম্পূর্ণ হতো।’

একই বিধানসভার বিপিএফের সদস্য বিশ্বজিত ভালোয়াড়ি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়ে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি সম্পন্ন করে সেখানকার উন্নয়ন ঘটানো উচিত। যাতে করে নতুন করে স্বল্প বা দীর্ঘ সময়ের জন্য অনুপ্রবেশ না ঘটে।’

আসাম বিধানসভার সদস্য মনশিঙ্কর আইয়ারও বিলটি পাসে সম্মতি জ্ঞাপন করেন।

রাজ্যসভায় বিরোধী দলীয় নেতা গোলাম নবি আজাদ বলেন, ‘আমরা যখন বিল পাস করতে চেয়েছিলাম বিজেপি তখন বিরোধিতা করেছিল। খুশীর কথা হল, চেয়ার বদলের সাথে সাথে তাদের মনও বদল হয়েছে।’

১৯৭৪ সালের ১৬ মে দিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালে সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রটোকল চুক্তি সই হয়। চুক্তিতে ভারত ও বাংলাদেশ নিজ নিজ দেশের অভ্যন্তরে ছিটমহল বিনিময়ে সম্মত হয়। ভারতে বাংলাদেশি ছিটমহল রয়েছে ৫১ টি, যার মোট এলাকা প্রায় ৭ হাজার ১১০ একর। অন্যদিকে বাংলাদেশের মধ্যে ভারতের ১১১টি ছিটমহল রয়েছে; সেই জমির পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ১৬০ একর জমি। ছিটমহল হস্তান্তর হলে ভারত পাবে ৭ হাজার একর জমি। বাংলাদেশ পাবে প্রায় ১০ হাজার একর জমি।