September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

উড়াল দেওয়ার কায়দা কানুন

ডেস্ক প্রতিবেদন : বিদেশ হলে কথাই নেই, দেশের ভেতরেও বিমান ভ্রমণ জনপ্রিয় এবং প্রয়োজনীয়। আর যাই হোক বাসের মতো আর দৈনিক বিমানে চড়তে হয় না অধিকাংশেরই। তাই বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম কানুন বিমান বালা বা কেবিন ক্রুরা আগেই মনে করিয়ে দেয়। কারণ সতর্কতার প্রয়োজন বিমানেই সবচেয়ে বেশি। কায়দা কানুনও অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলাই উত্তম।

ওঠার আগে

‘ডমেস্টিক’ আর ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইটের ক্ষেত্রে নিয়ম নীতি ভিন্ন। টিকেটে লেখা নির্দেশনা মেনে চললেই মুশকিল আসান হয়ে যাওয়ার কথা। তবে টিকেটে ফ্লাইট ‘ডিপার্চার’ সময় দেখে নিয়ে তার ন্যূনতম এক ঘন্টা আগেই বোর্ডিং পাস নেওয়ার জন্য হাজির হলে ভালো হয়। কি পরিমান মালামাল সঙ্গে নিতে পারবেন সেটা আগে থেকেই ওজন করে নিলে বিমানবন্দরে বিড়ম্বনা কমবে। আর কোন কোন জিনিশপত্র কোন ব্যাগে নিবেন সেটাও প্যাক করার আগেই চূড়ান্ত করে ফেলুন। বিমানে উঠে পড়লে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে পারবেন না। সুতরাং সবরকমের কথাবার্তা বা সেলফি তুলতে চাইলে লাউঞ্জে বসে ফ্রি ওয়াইফাই দিয়েই সেরে নিন। অধিকাংশ ফ্লাইটেই কমপ্লিমেন্টারি স্ন্যাক্স দেওয়া হয়। তবুও খালি পেটে বিমানের হাতে নিজেকে সপে দেবেন না। ব্যাগ-বোচকা কার্গোতে দিলে সাবধানে টোকেন সংরক্ষণ করে রাখুন।

বিমানের ভেতর

ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট বা কেবিন ক্রু ঠিকঠিক নিয়ম কানুন বাতলে দেবে। সেটা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। সিটবেল্ট বাঁধা নিয়ে তাদের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন। দুর্ঘটনায় পড়লে কী কী করতে হবে সেটাও মন দিয়ে শুনে রাখবেন। অক্সিজেন মাস্ক বা প্যারাস্যুট কেমন করে খুঁজে পাবেন বা জরুরি বহির্গমন দরজা কোথায় সেটাও জেনে নেবেন। ‘টেক অফ’ বা ‘ল্যান্ড’ করার সময় সিটবেল্ট বাঁধতে ভুলবেন না। প্লেনের ভেতরে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকে। হুড়মুড় করে ছবি তুলতে গিয়ে পাশের যাত্রির ওপর যাতে হেলে না পড়েন সেটাও খেয়াল রাখুন। পাশের সহযাত্রীর যাতে অসুবিধা না হয় সেদিকেও সতর্ক থাকুন। বড় লাগেজগুলো সিটের উপরের লকারে রাখুন। ছোট লাগেজগুলো সামনের সিটের নিচে রাখুন। আসনের মাঝের পথে লাগেজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখবেন না। এতে অন্য ব্যক্তির যাতায়াতে অসুবিধা হতে পারে। বিমান উঁচুতে উড়লে কানে ব্যথার অনুভূতি হয়। এয়ারলাইন থেকে না দিলেও এয়ার প্লাগ সঙ্গে নেবেন। দীর্ঘ ভ্রমণের একঘেয়েমি কাটানোর জন্য হালকা চালের বই নিতে পারেন। আর কাউকে জোরপূর্বক আলাপচারিতায় না জড়ানোই ভদ্রতা। একটানা অনেকক্ষণ বসে না থেকে সামান্য হাঁটাহাটি করতে পারেন। ওয়াশ রুম বেশিক্ষণ দখল করে রাখবেন না। ‘দুর্ঘটনা’ বলে কয়ে ঘটতে নাও পারে। ঘুমুতে চাইলে নেক পিলো সঙ্গে করে নেওয়া উচিত। বিমানে নাও থাকতে পারে। তাছাড়া যতক্ষণ আপনি বিমানে আছেন আপনার সব দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। যে কোন প্রয়োজনে ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টের সাহায্য নেবেন।

নামতে গিয়ে বা নামার পরে

নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই বিমান পুরোপুরি থামার আগে সিট থেকে উঠবেন না। নামার সময় দেখে নিন লাগেজগুলো ঠিক মতো নিয়েছেন কি না। নামার সময় অযথা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে না থেকে অন্যকে তাড়াতাড়ি নামার সুযোগ দিন। যদি আপনার সঙ্গে ভারী লাগেজ থাকে তবে আগে অন্যদের নামতে দিয়ে নিজে পরে নামুন। নেমে নির্ধারিত পথে লাউঞ্জ থেকে বেরিয়ে আসুন। আর কার্গোতে মালামাল থাকলে সেটা আসা পর্যন্ত লাইন ধরে অপেক্ষা করুন। অযথা ধাক্কাধাক্কি করলে সবারই বিড়ম্বনা বাড়বে। অচেনা অজানা বিমান বন্দর হলে যাকে তাকে তথ্য জিজ্ঞেস করবেন না। কর্তৃপক্ষের কাউকে খুজে বের করে তার কাছ থেকেই জেনে নিন বৃত্তান্ত।

ওহ, হ্যাভ আ সেফ ফ্লাইট।