June 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

কেরানির ভুলে স্থল সীমান্ত বিল ফের রাজ্যসভায়!

দিল্লি প্রতিনিধি : স্রেফ ‘কেরানির ভুলে’ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যেকার স্থল সীমান্ত বিল আবার ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় আনতে হচ্ছে। আগামীকাল সোমবারই এই বিলটি আবার সভায় তোলা হবে–এমন কী আবার ভোটাভুটি পর্যন্ত করতে হবে, যে কারণে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা দেশের উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি যারপরনাই ক্ষুব্ধ!

কিন্তু ভুলটা ঠিক কোথায় হয়েছে?

আসলে বিজেপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ যখন বুধবারে এই বহুপ্রতীক্ষিত বিলটি রাজ্যসভায় পেশ করেন তখনই তিনি স্বীকার করেছিলেন এটি আসলে বিগত ইউপিএ সরকারের আমলে ২০১৩-র ডিসেম্বরে আনা বিলটিরই হুবুহু প্রতিলিপি। একেবারে দাঁড়ি-কমা-ফুলস্টপ সুদ্ধু অবিকল একই বিলটি যে আসলে তখনকার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমলেই আনা, কৃতজ্ঞতার সঙ্গে সে কথাও স্মরণ করেন তিনি।

২০১৩-র ডিসেম্বরে যখন বিলটি আনা হয়, তখন সেটির নাম ছিল ১১৯তম সংবিধান সংশোধনী বিল। কিন্তু যেহেতু যত সংবিধান সংশোধনী বিল এ যাবত আনা হয়েছে তার সবগুলো পার্লামেন্টে পাস হয়নি, তাই এখন পাস হওয়ার পর এটি হবে আসলে ১০০তম সংবিধান সংশোধনী বিল। ফলে বিলটির শিরোনাম যাই হোক, সেটির প্রতি অনুচ্ছেদে এটা উল্লেখ থাকার দরকার ছিল যে পাস হওয়ার পর এটি হবে ১০০তম সংবিধান সংশোধনী বিল–কিন্তু রাজ্যসভায় পেশ করা বিলটিতে সে কথা বলা হয়নি!

সোজা কথায় দেড় বছরের পুরনো একটা বিল আবার নতুন করে পার্লামেন্টে পেশ করতে গেলে যে সামান্য আপডেট বা পরিমার্জনাটুকু করা দরকার, সেটাই এখানে করা হয়নি। প্রথমে এখানে ভুলটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের, কারণ বিলটির খসড়া তারাই তৈরি করেছে – আর তারপর ভুলের দায়িত্ব এড়াতে পারে না আইন মন্ত্রণালয়ও, কারণ তারাই সেই খসড়াটি পড়ে ছাড়পত্র দিয়েছে। দু’দুটো মন্ত্রণালয়ের নজর এড়িয়ে সেই ত্রুটিপূর্ণ বিলটিই রাজ্যসভায় অনুমোদিত হয়েছে।

ঘোর অস্বস্তিতে পড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যথারীতি এখন এটাকে ‘ক্ল্যারিকাল মিস্টেক’ বা ‘কেরানির ভুল’ বলে পার পেতে চাইছেন–কিন্তু বাংলা ট্রিবিউন খবর পাচ্ছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তাঁর মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন পদস্থ আমলার কাছেও এই ভুলের জন্য জবাবদিহি তলব করেছেন।

এই বিলটি যখন বুধবার রাজ্যসভায় ১৮০-০ ভোটে পাস হয়, তখন এর ভেতরের ভুলটা কারও চোখে পড়েনি। গণ্ডগোল বাধে পরদিন বৃহস্পতিবার লোকসভায় পেশ করার ঠিক আগে। তখন তড়িঘড়ি ভেতরে সেই ভুলটা শুধরে নিয়েই সভায় বিলটি পেশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কিন্তু রাজ্যসভায় থেকে যাওয়া ভুলটা কীভাবে শোধরানো হবে তা নিয়েই বাঁধে সমস্যা।

রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা দেশের উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি সব শুনে তো ভীষণই রেগে যান এবং পরিষ্কার জানিয়ে দেন যেহেতু এটা সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটা বিল, তাই এই ভুলটা শোধরাতেই হবে। আর তার রাস্তা একটাই, নতুন করে বিলটা ভুল শুধরে আবার রাজ্যসভায় পেশ করতে হবে।

শুধু তাই নয়, সংবিধান সংশোধনী বিল বলে ধ্বনিভোটে পাস করালেই শুধু চলবে না, বিলটি আবার ডিভিশনে দিতে হবে – অর্থাৎ বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি করাতে হবে। তবে হ্যাঁ, সরকারপক্ষের সঙ্গে হামিদ আনসারির রফা আলোচনায় এটুকু স্থির হয়েছে যে ওই বিল নিয়ে নতুন করে আর বিতর্কের দরকার হবে না–কারণ রাজ্যসভার এমপিরা আগেই এই বিল নিয়ে তাদের মতামত জানানোর সুযোগ পেয়ে গেছেন।

ফলে আগামীকাল সোমবার যখন পার্লামেন্টের বাজেট অধিবেশনের সম্প্রসারিত সভা আবার বসবে (গত সপ্তাহেই মাত্র তিনদিনের জন্য এই অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে) তখন আশা করা যায় মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভুল শুধরে সেই ‘শুদ্ধ’ স্থল সীমান্ত বিলটি রাজ্যসভা অনুমোদন করে দেবে।

বাংলা ট্রিবিউন আগেই বলেছে, রাজ্যসভায় পাস হওয়াটা ছিল এই বিলের সেমিফাইনাল আর লোকসভায় পাস হওয়াটা ফাইনাল–পর পর সেই দুটো ম্যাচে বিলটি জিতেছিল ১৮০ গোলে আর ৩৩১ গোলে।

কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি দাঁড়াল, তাতে ভারত সরকারের কোনও নাম-না-জানা কেরানি বা আমলার ভুলে ওই বিলটিকে এখন ফাইনাল জেতার পর আবার সেমিফাইনাল খেলতে হবে। সেই ম্যাচের নতুন রেজাল্ট আমরা এখনও জানি না–কিন্তু এটুকু জানি ম্যাচটা তার আগেই জেতা হয়ে গেছে।