September 24, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

পঞ্চগড় ছিটমহলে ফিরছে ছেড়ে যাওয়া লোকজন

পঞ্চগড় প্রতিনিধি : জেলার ৩৬টি ছিটমহলে একসাথে শুরু হয়েছে আদমশুমারি। এ সুযোগে ছিটমহলে ফিরতে শুরু করেছে ছেড়ে যাওয়া লোকজন। বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তি সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হওয়ায় নতুন করে জরিপের এ কাজ শুরু হলো।

সোমবার দুপুরে জেলা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গাড়াতি ছিটমহলে জনগণনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির পঞ্চগড়-নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি মফিজার রহমান। এ জরিপে ছিটমহলের লোকসংখ্যা, বসবাসকারী নারী-পুরুষের নামের তালিকা, তাদের পেশা, জমির পরিমান, ধর্ম  ও পেশাসহ ছিটমহলের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হবে। প্রত্যেক ছিটমহলে ওয়ার্ডভিত্তিক তিনজন করে মোট নয়জন কর্মী এ জরিপ কাজ পরিচালনা করবে।

ছিটমহল চুক্তি ভারত সরকার অনুমোদন করায় দুঃসময়ে ছিটমহল ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষেরা আবার ফিরতে শুরু করেছে। আজিমুল ইসলাম তাদের একজন। ছিটমহলে মারামারি ও আগুন দেয়ার সময় তিনি পাড়ি জমান জেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামে। ছিটমহল চুক্তি বাস্তবায়ন হবে জেনে আবারো ফিরে এসেছেন বাপ-দাদার ভিটেয়।

তিনি বলেন, “২০১০ সালে আমার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ায় ও ছিটমহলে কোনো অধিকার না থাকায় আমি চলে যাই। এখন ছিটমহল চুক্তি বাস্তবায়ন হবে এবং আমরা আমাদের অধিকার ফিরে পাবো, তাই আবার ফিরে এসেছি।”

মফিজার রহমান বলেন, “সাত দিনের মধ্যেই আমরা জেলার প্রত্যেক ছিটমহলের জরিপ কাজ শেষ করবো। পরে ছিটমহলগুলোর নবায়নকৃত তথ্য সরকারকে জানানো হবে।”

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সর্বশেষ জাতীয় আদমশুমারীর সময় পঞ্চগড়ের ছিটমহলগুলোতে আদমশুমারি পরিচালিত হয়। ওই জরিপ মতে, জেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত ৩৬ ছিটমহলের আয়তন ১১ হাজার নয়শো ৩২ দশমিক ৮০ একর এবং জনসংখ্যা ১৯ হাজার ৪৩ জন।