October 23, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

একনেকে ২য় সাবমেরিন ক্যাবলসহ ১০ প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক : তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করে ৬৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আঞ্চলিক সাবমেরিন টেলিযোগাযোগ প্রকল্প’ নামে ২য় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগসহ দুই হাজার ৩৬৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে জাতীয় একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের বিফ্রিং করেন।

তিনি বলেন, “আজকের একনেক বৈঠকে মোট দুই হাজার ৩৬৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) একহাজার ৫৩১ কোটি ৩৩ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১৫২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য থেকে ৬৮১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সংস্থান করা হবে।

সাবমেরিন প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে আন্তজাংতিক তথ্য প্রযুক্তি মহাসড়ক এসইএ-এমই-ডাব্লিউই নামে কনসোর্টিয়ামের দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন ক্যাবল আছে, যা দিয়ে ১৪টি দেশের ১৬টি কোম্পানির সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করতে পারি। তবে কোনও কারণে এ ক্যাবলটি বিকল হলে, এটি ঠিক করতে সাত থেকে ১০ দিন সময় লাগবে। সে সময় তথ্য প্রযুক্তি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। এছাড়া প্রতিনিয়ত ব্যান্ডউইথ চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ব্যাকআপ থাকা প্রয়োজন, এ কারণে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল থাকা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক সাবমেরিন টেলিযোগাযোগ প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কমিউনিকেশন্স ব্যবস্থা বহুমুখীকরণসহ কল সেন্টার, সফট্ওয়ার এক্সপার্ট, ডাটা-এন্ট্রি, ফ্রিল্যান্সিং ইত্যাদি তথ্যপ্রযুক্তি সেবার অধিকতর সুবিধা প্রদান করা হবে।

অন্য অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হল: ‘বিসিক শিল্প নগরী, মিরসরাই’ (সংশোধিত) প্রকল্প। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯কোটি ২৫ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এটি ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাস্তবায়ন করবে শিল্প মন্ত্রণালয়। ‘অন্তবর্তীকালীন পানি সরবরাহ’ প্রকল্প, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫২ কোটি টাকা।

৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যশিক্ষা’ প্রকল্প। দিনাজপুর–বিরল-পাকুয়া, রাধিকাপুর (বিরল স্থলবন্দর) সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্প। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩ কোটি টাকা। ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় কৃষি পল্লী উন্নয়ন অনুষদের ভৌত ও অন্যান্যা সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি’ প্রকল্প। প্রকল্পটির ব্যয় ৩৪ কোটি টাকা।

৩২৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘বঙ্গবন্ধু দারিদ্র বিমোচন প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স কোটালিপাড়া, গোপালগঞ্জ’ প্রকল্প। ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক’ প্রকল্প। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ‘জাতীয় ভূমি জোনিং প্রকল্প’ এবং ‘বিএডিসি’র বিদ্যমান বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও  বিতরণ ব্যবস্থাদির আধুনিকীকরণ এবং উন্নয়ন নামে আরও দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

একনেক বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধরী, নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এবং প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।