September 17, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

করপোরেট কর হার পুনঃনির্ধারণের প্রস্তাব

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : নতুন অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে (২০১৫-১৬) দেশের পুঁজিবাজারের স্বার্থে করপোরেট কর হার পুনঃনির্ধারনের প্রস্তাব করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

মঙ্গলবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির ৩৬তম সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ এ প্রস্তাব দেন।

কাজী আকরাম বলেন, “পুঁজিবাজারের স্বার্থে কোম্পানির লভ্যাংশের উপরে বর্তমানে প্রযোজ্য কর রেয়াতের সুযোগ সব শ্রেণীর পাবলিকলি টেডেড কোম্পানির জন্য অবরিত করা, দেশি-বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) ত্বরান্বিত করা, বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে বিনিয়োগ প্রবাহিত করা এবং করপোরেট কর হার প্রতিবেশী দেশ সমূহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষে বিভিন্ন প্রকার কোম্পানির করহার পুনঃনির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান, এফবিসিসিআই প্রথম সহ-সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, জাতীয় রাজস্ব বোডের কর্মকর্তা, এফবিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি এবং ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআই এর প্রস্তাবে বলা হয়, ব্যাংক বীমা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন অপারেটর, মার্চেন্ট ব্যাংক ও সিগারেট প্রস্তুতকারক কোম্পানি ছাড়া অন্য সব কোম্পানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে রেজিস্ট্রিকৃত কোম্পানি হতে লব্ধ লভ্যাংশ আয় ব্যতিরেকে অন্য সর্প্রকার আয়ের উপর পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানি ক্ষেত্রে- কোনো লভ্যাংশ না দিলে বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ, ১০ শতাংশর অধিক লভ্যাংশ কিন্তু ৩০ শতাংশের কম দিলে ২৭ দশমিক পাঁচ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ, ৩০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দিলে ২৪ দশমিক ৭৫ থেকে কমিয়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ কর নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে অতিরিক্ত কর অধ্যাদেশ ধারা ১৬বি অনুযায়ী পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে (ব্যাংক-বীমা ব্যতিরেকে) যারা কমপক্ষে ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা বা বিতরণ না করে তাদের উপর অতিরিক্ত কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূণ্য এবং নন পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানি ক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি হলে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ, নন ম্যানুফ্যাকচারিং বা ট্রেডিং কোম্পানি হলে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে ব্যাংক বীমা ও অন্যান্য আথিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে (মাচেন্ট ব্যাংক ব্যতীত) তালিকাভূক্ত কোম্পানির আয়ের উপর ৪২ দশমিক পাঁচ শতাংশ থেকে কমিয়ে কোনো লভ্যাংশ না দিলে বা ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিলে ৪০ শতাংশ, ১০ শতাংশর অধিক লভ্যাংশ কিন্তু ৩০ শতাংশের কম দিলে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ৩০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দিলে ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া অতিরিক্ত মুনাফা কর অধ্যাদেশের ধারা ১৬সি অনুযায়ী ব্যাংক কোম্পানির ক্ষেত্রে মূলধনের ৫০ শতাংশের অতিরিক্ত লাভের উপর ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংক ক্ষেত্রে ৩৭ দশমিক পাঁচ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ কর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।