December 6, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

‘ইলিয়াস-আলমদের দায়-দায়িত্ব খালেদার’

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ ‘নিখোঁজ’ হওয়াদের দায়-দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর বর্তায় বলেন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

‘ইলিয়াস-আলমসহ এদের দায়-দায়িত্ব আপনার (খালেদা জিয়া) উপর বর্তায়। এরা কোথায়? শিলংয়ে না দার্জিলিংয়ে, নেপালে না ভুটানে কোথায় আপনি আত্মগোপন করিয়েছেন?’ বুধবার এক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন সাবেক এই রেলমন্ত্রী।

রাজধানীর ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে বুধবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু একাডেমী আলোচনা সভাটির আয়োজন করে।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, এটি গুম, অর্ন্তধান কিংবা নিখোঁজ নয়, আত্মগোপন। আত্মগোপন আর গুম এক জিনিস না। এ আত্মগোপন দলের নির্দেশে হতে পারে, দলীয় নেতার নির্দেশে হতে পারে। রাজনৈতিক কারণেও হতে পারে।

‘এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে আত্মগোপন দলীয় প্রধানের নির্দেশে করা হয়েছে। সেই সময়ের রাজনীতিকে আরও একটু সঙ্কটে পরিণত করার জন্য। তাকে আত্মগোপন করে সরকারকে গুমের অপরাধে অপরাধী করবেন এটা অত্যন্ত শঠতাপূর্ণ রাজনীতি। এটি আক্রোশ ও বিদ্বেষমূলক,’ মন্তব্য করেন তিনি।

সুরঞ্জিত বলেন, ‘আমাদের বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বললেন র‌্যাবের কাছে আছে। এমনভাবে বললেন যে তিনি দেখেছেন। এই ধরণের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে আমরা পরিচিত নই। এটা অপরাজনীতি। এই অপরাজনীতির সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া আপনি এবং আপনার দল জড়িত।’

‘সালাহ উদ্দিন আহমদ কোথায় ছিলেন। দুই মাস পর তার মনে নাই। কিন্তু তার স্ত্রীর টেলিফোন নম্বর মনে আছে। আমাকে যে পাওয়া গেছে-এই কথাটি গণমাধ্যমেকে জানাতে হবে এটা মনে আছে। সেখানকার গণমাধ্যমে রাজনৈতিক কথা বলেছেন-সেটা মনে আছে। কিন্তু কোথায় ছিলো সেটা মনে নেই! আমি মনে করি থলের বিড়াল বেড়িয়ে এসেছে,’ যোগ করেন সুরঞ্জিত।

তিনি বলেন, বিরোধী দল গণতন্ত্রে অনিবার্য। বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র হয় না। তারা কেউ গুম হয়ে যান, অর্ন্তধান হয়ে যান এটা কারো কাছে কাম্য নয়। রাজনীতি মানবিক। সালাহ উদ্দিন আহমদের অর্ন্তধান আমাদেরকে মর্মাহত করেছিলো। দু মাস পরে যে খবরটি এসেছে এতে বোঝা যায় থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে।

ব্লগার খুন প্রসঙ্গে সুরঞ্জিত

সিলেটের ব্লগার হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একের পর এক ব্লগার হত্যা হচ্ছে। তাদের হত্যার ধরণ একই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হত্যাকারীরা কেউ ধরা পড়েনি।

‘আমি মনে করি আমাদের দেশের পুলিশ অন্য যেকোনো দেশের পুলিশের চেয়ে ভালো। তারা (পুলিশ) যদি মনে করে কোন অপরাধীকে ধরবে তাহলে ধরতে পারে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তারা এই অপরাধীদের ধরতে চাচ্ছেন না বলে ধরা পড়ছে না। এর পরিণতি শুভ হবে না,’ মন্তব্য করেন তিনি।

ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের ওপর হামলাপ্রসঙ্গে

ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের ওপর হামলা প্রসঙ্গে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। এর প্রতিবাদে কর্মসূচি থেকে যেভাবে মেয়েটিকে গাছের আশ্রয় থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনা হলো এটি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যকে ম্লান করেছে। শুধুমাত্র একজন পুলিশকে সাসপেন্ড করে বসে থাকলে যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে উচ্চতর কমিটি গঠন করে আরও অগ্রসর হওয়া উচিত।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ সম্পাদক নারায়ণ দেবনাথের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন সাম্যবাদী দলের নেতা হারুন চৌধুরী ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানু।