September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

পলাতকদের গ্রেফতারে মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

আদালত প্রতিবেদক : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত এবং গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের উদ্যোগ নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে কিশোরগঞ্জের পলাতক চারজনের বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য আগামী ৩১ মে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

আদেশে অতিরিক্ত মহা পুলিশ পরিদর্শকের (ডিআইজি) সমান পদমর্যাদা নয় এমন (পুলিশ, ডিবি, এসবি ও র‌্যাবের) কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মনিটরিং সেল গঠন করতে বলা হয়েছে। তারা ওই আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন কিনা এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ৪০ দিন পর পর ট্রাইব্যুনালকে জানাবে।

একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কিশোরগঞ্জের পাঁচজনের মধ্যে অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন ছাড়া বাকি চারজন পালতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পরেও তাদেরকে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করতে পারছেন না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেওয়ার পরে স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।

এর আগে গত ১০ মে কিশোরগঞ্জের পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেন প্রসিকিউশন। বুধবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হবে কি-না, সে বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল।

একটি মামলায় পাঁচ আসামি হচ্ছেন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের দুই সহোদর সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদ ও কিশোরগঞ্জ জেলা বারের আইনজীবী মো. শামসুদ্দিন আহমেদ এবং কিশোরগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার গাজী আব্দুল মান্নান, হাফিজ উদ্দিন ও আজহারুল ইসলাম। এর মধ্যে আইনজীবী মো. শামসুদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন রাষ্টপক্ষের আইনজীবী সুলতান মাহমুদ সিমন, তাপস কান্তি বল ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আটক আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার আতিকুর রহমান।

প্রসিকিউশন গত ১৫ এপ্রিল এ মামলায় তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে। এর আগে গত ১৩ এপ্রিল এ প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও এ পর্যন্ত আসামি শামসুদ্দিনকে ছাড়া অন্যদের গ্রেফতার করা যায়নি। বাকি আসামিরা এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাইব্যুনাল।

তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, লুণ্ঠন, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সুর্নিদিষ্ট অভিযোগ এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ আসামিরা মুক্তিযুদ্ধকালে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার বিদ্যানগর, আয়লা, ফতেরগুপ বিল, পীরাতন বিল ও আশেপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে। এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ৪০ জন সাক্ষী রয়েছেন।