September 24, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বায়ার্নের কাছে হেরেও ফাইনালে বার্সা

ক্রীড়া ডেস্ক : জার্মান রক্তে অদৃষ্টবাদের কোন স্থান নেই। কর্মফলে বিশ্বাসী তারা। কিন্তু ঠেলায় পড়ে সেই তারাই কিনা ফুটবল দেবতার দিকে তাকিয়ে ছিল! হ্যাঁ, আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বার্সেলোনা-বায়ার্ন মিউনিখ মহারণের আগের দেশটির কিংবদন্তির ফুটবলার কার্ল হেইঞ্জ রুমিনেগে ‘শতাব্দীর সেরা প্রত্যাবর্তন’- এর আশায় বিভোর ছিল।

কিন্তু আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় অভাবিত কিছুই ঘটেনি। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে রিটার্ন লেগে দুই টাইটানের সম্মুখ সমরে বার্সার বিপক্ষে ৩-২ গোলে ম্যাচ জেতে বায়ার্ন। কিন্তু প্রথম পর্বে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় দুই পর্ব মিলিয়ে  ৫-৩ স্কোরলাইনে পরের পর্বে উতরে যায় লিওনেল মেসিরা। অর্থাৎ, চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করে। ২০১১ সালের পর প্রথমবারের মতো।

ইনজুরিতে দলের সেরা খেলোয়াড়দের হারিয়ে মাঠে পারফরম্যান্সে ধুঁকছিল বায়ার্ন। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে টানা চার ম্যাচে হেরেছিল তারা। ফলে চাপ বাড়ছিল দলটির কোচ পেপ গার্দিওলার ওপর। চাপ বাড়ছিল ফুটবলারদের ওপরও। বার্সেলোনার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারের প্রথম পর্বে হারায় টুর্নামেন্টটি থেকে বিদায়ের চোখ রাঙানিও সহ্য করতে হচ্ছিল জার্মান চ্যাম্পিয়নদের। ফাইনালে নাম লেখাতে তাদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪-০ গোলের জয়। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের রিটার্ন লেগে সব শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তারা।

ঘরের মাঠে ম্যানুয়েল ন্যয়ার, ফিলিপ লাম ও থমাস মুলারদের শুরুটাও হয়েছিল দুর্দান্ত। খেলার আট মিনিটেই এগিয়ে যায় বায়ার্ন। জাবি আলোনসার কর্নার কিক থেকে হেডে স্বাগতিকদের প্রথমেই এগিয়ে দেন মরক্কান ডিফেন্ডার মেহেদি বেনেটিয়া। কিন্তু এর জবাব দিতে মাত্র সাত মিনিট সময় নেয় বার্সা। পারফেক্ট এমএসএন কম্বিনেশনে খেলার ১৫ মিনিটে সমতায় ফেরে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। মাঝ মাঠে মেসির নিকট থেকে বল পেয়ে লুইস সুয়ারেজ দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক শানান। এরপর গোলমুখে বল বাড়ান নেইমারকে। তা থেকে লক্ষ্যভেদ করেন ব্রাজিলিয়ান অ্যাটাকার।

স্কোরলাইন ১-১ হওয়ার পর ফাইনালে যাওয়ার জন্য বায়ার্ন মিউনিখের রাস্তাটা আরো দুর্গম হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় নিজের ও দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোল করেন নেইমার। আবারো মেসির হেডার থেকে সুয়ারেজের পায়ে বল। এরপর কাউন্টার অ্যাটাক। তা থেকে গোল আদায় নেইমারের। প্রথমার্ধের বিরতিতে ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল বার্সা। কিন্তু বিরতির পর ১৫ মিনিটের মধ্যে রবার্ট লেভানডফস্কি ও থমাস মুলারের গোলে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। এতে তেতে ওঠে স্বাগতিক সমর্থকরা। তারা স্বপ্ন বুনতে থাকে বায়ার্ন হয়তো মিরাকল ঘটিয়ে ফেলবে। আরো তিন গোল করে মেসিদের ৬-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে নাম লেখাবে। কিন্তু বার্সা ডিফেন্ডাররা আর কোন ভুল করেনি। ফলে ফিরতি লেগে জিতেও প্রথম পর্বের ফলাফলে কপাল পোড়ে বায়ার্নের।