December 1, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বান্দরবানে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উচুঁ সড়কপথ

বান্দরবান প্রতিনিধি : সমুদ্র সমতল থেকে আড়াই হাজার ফুট উঁচুতে নির্মাণ করা হয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু সড়কপথ। যা দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সড়কপথ। বান্দরবানের থানচি থেকে আলীকদম হয়ে এ পথ চলে গেছে আরেক পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। পাহাড়ে পর্যটন শিল্প বিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সুউচ্চ এ সড়ক।

চলতি মাসের কোনো এক সময় দেশের সবচেয়ে উঁচু এ সড়কপথের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সড়কটি খুলে দেয়া হবে জনসাধারণের জন্য।

এপ্রিল মাসে থানচি-আলীকদম সড়ক পরিদর্শনকালে সেতু ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে সড়কটি। পাহাড়ের চূড়ায় দেশের সবচেয়ে উচুঁ সড়কপথ নির্মাণের মাধ্যমে সেনাবাহিনী অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। সড়কটি পর্যটন শিল্পে নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

সেনাবাহিনীর প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রথম থানছি-আলীকদম সড়কের কাজ শুরু করে। চার বছর কাজ করার পর ২০০১ সালে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল শাখা ১৭ ইসিবিকে সড়কটি হস্তান্তর করা হয়। ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৭ ইসিবি ১৮ কিলোমিটার পর্যন্ত সড়কটি নির্মাণ কাজ করে। গত বছরের অক্টোবর থেকে সড়কটি দেয়া হয় ১৬ ইসিবিকে। তারা থানচি থেকে আলীকদম পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটারের সড়কটি দুই কিলোমিটার কমিয়ে ৩৩ কিলোমিটারে নিয়ে আসে।

থানচি-আলীকদম সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা (পিডি) লে. কর্নেল মনোয়ারুল ইসলাম জানান,  প্রকল্প বাস্তবায়নে ১২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ৩০ জুন প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই মাস আগেই তা সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কক্সবাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সড়কটি দুই পর্বে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্বে থানচি থেকে আলীকদম অংশের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় অংশ ছাড়াই আলীকদম থেকে চকরিয়া সংযোগ সড়ক ব্যবহার করে কক্সবাজার যাওয়া যাচ্ছে। তবে আলীকদম থেকে বাইশারি-চাকঢালা-ঘুমধুম-উখিয়া অংশের কাজ শেষ হলে পথের দূরত্ব অনেক কমে যাবে।

স্থানীয়রা জানান, থানচি ও আলীকদম সড়ক নির্মাণের ফলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাগ্য পরিবর্তনের বার্তা বয়ে আনছে। সড়কটি চালু হলে দুই উপজেলাবাসীর ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, জুমে উৎপাদিত ফসল ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবেন স্থানীয়রা। এছাড়াও পর্যটকরা ডিম পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অবলোকন করতে পারবেন ।

থানচির স্থানীয় সাংবাদিক অনুপম মার্মা জানান, সুউচ্চ এই সড়ক থেকে পর্যটকরা পাহাড়ের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারবেন।

স্থল যোগাযোগ না থাকায় বান্দরবান সদর থেকে নদী পথে থানচি যেতে দুই দিন লাগতো। এখন পৌনে দুই ঘণ্টায় থানচি, আর পাহাড়ি পথ ধরে আলীকদম যেতে লাগছে মাত্র আড়াই ঘণ্টা।

আলীকদম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, দুটি উপজেলার পাড়ার আদিবাসী বাসিন্দারা আগে ২৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে আলীকদম বাজারে আসলেও এখন তারা অনায়াসে গাড়িতে করে আসতে পারবেন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা থানছির রেমাক্রি জলপ্রপাত, তিন্দুর পাথুরে নদীপথ, নাফা খুম, শঙ্খ নদীর উৎস মুখ আন্ধার মানিক, গহিন রিজার্ভ ফরেস্ট ভ্রমণ করতেন তারা এখন থানচি-আলীকদম সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজে ঘেরা সারি সারি পাহাড় দর্শন করে সরাসরি চলে যেতে পারবেন আরেক পর্যটন নগরী কক্সবাজারে।

থানচি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য হ্লা চিং মার্মা বলেন, পাহাড়ের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করলো থানচি-আলিকদম সড়ক। এছাড়াও থানচি থেকে আলীকদমের দূরত্ব কমিয়ে আনার ফলে এ এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হবে ।