June 17, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ভূমিকম্প নিয়ে যা বলছে বুয়েট

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিভিন্ন সংস্থার ভূতাত্ত্বিক জরিপে ভূমিকম্প ঝুঁকির চরম মাত্রায়  থাকা বাংলাদেশে এবার রিখটার স্কেলে সাড়ে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হলে মারা যেতে পারে ২ থেকে ৩ লাখ মানুষ। এমনই তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক গবেষণায়।

বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় বুয়েটের জরিপে আরও বলা হয়েছে, সারা দেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা লক্ষাধিক। একই সাথে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূকম্পনেও বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। এ ক্ষেত্রে নতুন ভবন নির্মাণে সরকারি তদারকি আরো বাড়ানোর জন্য বলেছে তারা।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড়শ বছরে ভারত ও বাংলাদেশ অংশে রিখটার স্কেলে ৭ এর উপরে ভূমিকম্প হয়েছে ৭টি। আর এবার জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৪ থেকে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে ২০টি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ এখন কোন মতেই ঝুঁকিমুক্ত নয়। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মেহেদী আহম্মদ আনসারী বলেন, ‘আমরা ভুলে গেছি এগুলো আসতে পারে, কারণ গত ৮০-৮১ বছরে কোনো বড় ভূমিকম্প হয়নি। আমি মনে করি নেপালের এটি আমাদের একটি ওয়েক আপ কল যে ৬০ বছরে আমাদের এখানে ৭ মাত্রার বড় ভূমিকম্প হতেই পারে।’

আরেক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘ইন্ডিয়ান প্লেট যাচ্ছে উত্তর দিকে, আর উত্তর দিকে আমাদের ইউরেশিয়ান প্লেট। দুটি প্লেট ধাক্কা দিচ্ছে, আর তাতে করে এর বাউন্ডারিতে এনার্জি স্টোর হচ্ছে। বেশ কিছুদিন পরপর তারা প্রেসারটি রিলিজ করার জন্য জায়গাটি নড়ে যায়, আর তখন ভূমিকম্প হয়।’

বুয়েটের জরিপে আশঙ্কা, সাড়ে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে বাংলাদেশে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। তবে গবেষকরা বলছেন, ভূকম্পনের ফলে সৃষ্ট দূর্যোগ জনসচেতনতার মাধ্যমে সহজেই মোকাবেলা করা সম্ভব।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘পৃথিবীর সব মানুষকে ভূমিকম্প নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে। কারণ আমরা সবাই কোনো না কোনো টেকটনিক প্লেটের উপর আছি এবং প্রতিটি টেকটনিক প্লেট মুভ করছে।’

অন্যদিকে, ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মেহেদী আহম্মদ আনসারী বলেন, ‘ভূমিকম্প হলে আমরা নিচে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করছি, এটি একেবারেই নিষিদ্ধ এবং ভুল ধারণা।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের তথ্য বলছে, ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে এমন নরম মাটি সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রামে, শতকরা ৮০ ভাগ। আর রাজধানীতে ৬৫ ভাগ।