September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

৮০০ অভিবাসীর নৌকা সাগরে ফিরিয়ে দিলো মালয়েশিয়া

বিদেশ ডেস্ক : এবার নিজেদের উপকূল থেকে প্রায় ৮০০ অভিবাসীকে বহনকারী দুটি নৌকা সাগরে ফিরিয়ে দিলো মালয়েশিয়া। অনিশ্চিত ভাগ্য নিয়ে ফের সাগরেই ভেসে যাওয়া এই অভিবাসীদের প্রায় সবাই বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অভিবাসী বহনকারী নৌকাগুলোকে তীরে ভিড়তে না দিয়ে আবারও সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করে আসছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো মানবিক কারণে তাদের সাগরে ফিরিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করলেও তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই কর্তৃপক্ষের।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে বুধবার বিকেলে পেনাংয়ের জলসীমায় ৫০০ অভিবাসী একটি নৌকা দেখতে পায় স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী। এরপর লংকাউয়ি দ্বীপের উপকূলে পাওয়া যায় ৩০০ অভিবাসীবাহী আরেকটি নৌকা। রাতভর কোনওটিকেই উপকূলে ঘেঁষতে না দিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল হতেই সেগুলোকে সাগরে ফিরিয়ে দেয় মালেশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী। বরাবরের মতো ধারণা করা হচ্ছে, এই দুই নৌকার আরোহীরাও মিয়ানমারের অধিকারবঞ্চিত রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিক। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ান জুনাইদি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা আমাদের সীমান্ত ভেঙে ঢুকতে চাইছে তাদের সঙ্গে আমরা এখনও ভালো আচরণ করছি, এখনও তাদের সঙ্গে মানবতাবোধ দেখাচ্ছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে এভাবে অবৈধ অভিবাসীর ঢল সামলাতে থাকবো। আমারা স্পষ্ট করেই বলছি এই ধরনের অভিবাসীদের আমরা আর গ্রহণ করতে পারছি না।’

মানবাধিকার সংগঠন ফোর্টিফাই রাইটস এর নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথু স্মিথ বলেন, ‘এসব অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার বদলে ফের সমুদ্রে ঠেলে দেওয়া হলো। তাদের আবারও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এটা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি করবে।’

এর আগে সোমবার মালয়েশিয়ার লংকাউয়ি দ্বীপের সমুদ্র সৈকতের কাছ থেকে তিনটি বড় নৌকা থেকে এক হাজার ১৮ অভিবাসীকে উদ্ধার করে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী। উদ্ধার ওই অভিবাসীদের মধ্যে সাড়ে পাঁচশ জনই বাংলাদেশি ছিলেন।

একই দিন আবারও ইন্দোনেশিয়ার আচেহ উপকূল থেকে বাংলাদেশিসহ প্রায় ৪০০ অভিবাসীকে উদ্ধার করে স্থানীয় কোস্টকার্ড ও পুলিশ। তবে এদের মঙ্গলবার সাগরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে সাড়ে আট হাজারের মতো বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অভিবাসী বর্তমানে সাগরে ভাসছে।