September 19, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি লাঘবে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক হতে হবে : প্রধান বিচারপতি

অাদলত প্রতিবেদক: প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি লাঘবে বিচারক, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টদের আরো আন্তরিক ও দায়িত্বশীর হতে হবে।
গতকাল শনিবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বার ও বেঞ্চের ভুমিকা’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন।
প্রধান বিচারপতি বলেছেন, শুধমাত্র আইনজীবীর ত্রুটির কারণেই ৬০ থেকে ৭০ ভাগ মামলায় বিচারপ্রাথীরা হেরে যান। একটি বাড়ি তৈরিতে যেমন কারিগর থাকে। ঠিক একজন আইনজীবীও একটি মামলার কারিগর। তিনি যেভাবে চাইবেন সেভাবেই মামলাটি তৈরি হবে।
তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে কিভাবে। একজন আইনজীবী হিসেবে আপনি মক্কেলের কাছ থেকে যে ডিক্টেশন নিয়েছেন সে বিষয়ে আপনি সচেতন না। আপনাকে প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে পারেন না।
তিনি বলেন, এখন নবীন আইনজীবীরা কোন সিনিয়র চেম্বারে এটেন্ট করেন না। এই সিস্টেমটি উঠে গেছে। আমাদের জীবনে প্রথম পাঁচ বছরে জামিনের জন্য কোর্টে দাঁড়াতেও সাহস পাইনি। সিনিয়রদের ডিক্টেশন লিখতে লিখতে হাতে কড়া পড়ে যেত। এখন তো সহজ হয়ে গেছে।
নিম্ন আদালতে দুপুরের পর কোর্টে কোন আইনজীবীই থাকেন না। জুনিয়রদের দিয়ে শুধু সময় নেন। আবার কড়া একজন বিচারপতি পড়লে তাকে তাড়ানোর জন্য বার থেকে বিভিন্নভাবে আন্দোলন শুরু করে দেন আইনজীবীরা। এভাবে চললে তো মামলার জট বাড়তেই থাকবে। আইনজীবী কোর্টে না আসলে মামলা খারিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান প্রধান বিচারপতি।
তিনি বলেন, আইনের শাসন বলতে আমি বুঝি, প্রথমে আমি আমার দায়িত্ব পালন করি তারপর আরেকজনকে বলি।
বিচার বিভাগে মামলা জট নিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের পিট দেয়ালে ঠেকে গেছে। বিচার বিভাগ সব সময় চাপের মধ্যে থাকে। নিম্ন আদালতে ২৮ লাখ ৩০ হাজার মামলার জট রয়েছে। এ মামলা থেকে উত্তরণের জন্য দরকার বিচারকদেরও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা। বিচার বিভাগের চাহিদা তুলে ধরলেই অনেক জায়গা থেকে বিমাতাসূলভ আচরণ করা হয়।
ট্রেনিংয়ের জায়গা অপ্রতুল হওয়ায় বিচারকদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
মাসদার হোসেন মামলার ১৪ বছর পার হয়ে গেলেও কি পেলাম আমরা। বিচার বিভাগের এবং বিচারকদের প্রকৃতপক্ষে যদি স্বাধীনতা দিতে চাই। তাহলে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে যা আছে তা পুনঃস্থাপন করতে হবে। না হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কোন দিনই থাকবে না।
এরপর তিনি গণমাধ্যমেকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা বিচার বিভাগ নিয়ে লেখেন। তবে লেখার আগে আপনাদের জানতে হবে। সঠিক বিষয় বস্তু জেনে বুঝে লেখেন। না জেনে পান্ডিত্য করবেন না। আলোচনা-সামলোচনা করেন, সত্য উৎঘাটন করেন। কিন্তু অপব্যাখ্যা করবেন না।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বার ও বেঞ্চের সম্পর্ক উন্নয়নে কয়েক দফা প্রস্তাব তুলে ধরে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার মঈন ফিরোজী।
সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- বিচারপতি আওলাদ আলী, বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদার প্রমুখ।