January 28, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়নে বাধা ‘আমলাতন্ত্র’

নিজস্ব প্রতিবেদক : অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়নে ‘স্বার্থান্বেষী আমলাতান্ত্রিক মহলবিশেষের নানাবিধ চক্রান্ত’-ই প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ এমন অভিযোগ করেছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করে সংগঠনটি।

ঢাকাসহ সারাদেশে ৩০ মে আইনটি দ্রুত বাস্তবায়ন ও মহলবিশেষের চক্রান্তমূলক পদক্ষেপের প্রতিবাদে সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে লিখিত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, ‘২০০১ সালের অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ছয়বার সংশোধনী সংসদে গৃহীত হবার পর তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। গত দুই বছরের মধ্যে আমরা যেখানে আশা করেছিলাম ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠী ছয় দশকের অব্যাহত যন্ত্রণা থেকে চিরতরে মুক্তি পাবে, অর্পিত সম্পত্তির মালিকানা ফিরে পাবে, সেক্ষেত্রে তা এখন সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে।’

তিনি বলেন, স্বার্থান্বেষী আমলাতান্ত্রিক মহলবিশেষের নানাবিধ চক্রান্ত্রে এ মুক্তি আজ এ মুহূর্তে সোনার হরিণ বলেই মনে হয়। আইনটি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা থাকলেও গণবিরোধী আমলাচক্র তা নস্যাতের জন্য কুটিল ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আট দফা দাবি জানান। সেগুলো হলো— দ্রুত আইনটি যথাযথ বাস্তবায়ন করে ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠীকে পরিত্রাণ দেওয়া, আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যাবতীয় চক্রান্ত নস্যাৎ করে উদ্ভূত সমস্যাগুলো দ্রুত নিরসন করা, ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রে উল্লেখিত ভোগদখলকারীদের মালিকানার সমর্থনে বৈধ প্রমাণপত্র উপস্থাপনের সময় এক বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা, তফসিলভুক্ত জমির খাজনা আদায় ও নামজারির ক্ষেত্রে প্রশাসনের হয়রানি ও টালবাহানা বন্ধ করা, ভূমি অফিসসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট নানা স্তরে অব্যাহত ঘুষ-বাণিজ্য ও দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আবেদন নিষ্পত্তির জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালগুলো আরো সক্রিয় ও সচল করা এবং আইনে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে তা নিষ্পত্তিতে বাধ্য করা, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী প্রাপ্ত সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত বিধিমালা- ২০১৫ চূড়ান্তকরণের কার্যক্রম অনতিবিলম্বে বাতিল করা, ট্রাইব্যুনালের রায় ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে ঢালাও আপিল বন্ধ করা এবং আপিল ট্রাইব্যুনালের রায় ও ডিক্রি দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

সংবাদ সম্মেলনে ‘নিজেরাই করি’র খুশী কবির বলেন, আমলাতান্ত্রিক চক্রান্তের যাতাকলে পড়ে আইনটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না এখনও। কারণ এ সমস্যা যত দিন থাকবে তত দিন তাদের পকেটে টাকা আসবে। আর এ দেশে দখল করার সংস্কৃতি তো আছেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের অজর রায়, ড. নীম চন্দ্র ভৌমিক প্রমুখ।