September 29, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

সিলেটে তাবলীগের আমিরকে হত্যার দায় স্বীকার স্ত্রীর

সিলেট প্রতিনিধি : নগরীর চারাদিঘীর পাড় এলাকায় তাবলীগ জামায়েতের আমির ইব্রাহিম আবু খলিলকে (৫৫) জবাই করে হত্যা করার কথা ‍পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন তার স্ত্রী ফাতেহা মাসকুরা। একাধিক বিয়ে ও পরিবারকে সময় না দেওয়ার কারণেই স্বামীকে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার ফাতেহাকে স্বামী হত্যার অভিযোগে আদালতে পাঠানো হবে বলে কোতোয়ালি থানা সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধারের তিন ঘন্টার মাথায় মহানগর পুলিশ হত্যার মূলরহস্য উদঘাটন করেছে। পাশাপাশি হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে আটক ইব্রাহিমের স্ত্রী পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিহত ফাতেহা মাসকুরা জানান, রোববার রাতে ঘুমিয়ে থাকা ইব্রাহিম খলিলকে তিনি প্রথমে একটি ভারি লোহার স্লীপার দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এরপর তাকে ধারালো দা দিয়ে জবাই করেন। শেষে পেটে তিনটি কোপ দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

সূত্র জানায়, রোববার রাতে নগরীর চারাদিঘীর পাড় এলাকার তাবলীগ জামায়াতের আমির ইব্রাহিম আবু খলিল ভারত থেকে তাবলীগ জামায়াত শেষে বাসায় ফেরেন। ওইরাতেই তাকে জবাই করে হত্যা করেন স্ত্রী। সোমবার সকাল ৯টায় পুলিশ ইব্রাহিমের বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইব্রাহিমের স্ত্রী ফাতেহা বেগম, ছোট ছেলে সাজিদ (১৪) ও গৃহকর্মীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তাদের তিন জনকে আলাদা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে ফাতেহা মাসকুরা পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে হত্যার কারণ জানান।

পুলিশকে ফাতেহা বলেন, তার স্বামী তিনটি বিয়ে করেছেন। তিনি বাসায় খুব কম আসতেন। পরিবারকে খুব কম সময় দিতেন। দিনাজপুরে একটি বিয়ে করেন। পরে ওই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। আরেক স্ত্রী থাকেন নগরীর বালুচর এলাকায়। পরিবারের খোঁজ-খবর না নেয়ার কারণেই স্বামীকে হত্যা করেছেন বলে জানান ফাতেহা।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. রহমত উল্লাহ ফাতেহার বরাত দিয়ে বিষয়টির বর্ণনা দিয়েছেন । তিনি বলেন, লাশ উদ্ধারের তিন ঘন্টার মাথায় রহস্য উদঘাটন হয়েছে। ইব্রাহিমকে তার স্ত্রীই হত্যা করেছেন। স্ত্রী ফাতেহা তা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। একাধিক বিয়ে করা ও পরিবারকে সময় না দেয়ার কারণেই ইব্রাহিমকে খুন করেছেন তার স্ত্রী। মো. রহমত উল্লাহ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, পুলিশ যখন লাশ উদ্ধার করতে বাসায় যায় তখনই আলামত দেখে বুঝা যায় বাইরের কেউ তাঁকে হত্যা করেনি। তাই ঘরে থাকে ইব্রাহিমের স্ত্রী, ছোট ছেলে সাজিদ, ও ঘরের আয়াকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসা করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ইব্রাহিমের স্ত্রী নিজেই স্বামীকে হত্যা করেন বলে জানান।

কোতোয়ালি থানার ওসি মো. সোহেল আহমদ জানান, লাশের ময়না তদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ইব্রাহীম খলিল যে কক্ষে ঘুমাতেন ওই কক্ষের দরজা সব সময় খোলা থাকত। রোববার রাতেও তিনি দরজা খোলে ঘুমান। রাতে খাবার শেষে তিনি তার কক্ষে, স্ত্রী অন্য কক্ষে এবং ছোট ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী সাজিদ আলাদা আরেকটি কক্ষে ঘুমাতে যায়। নিহত ইব্রাহিমের বড় দুই ছেলে মাওলানা হুজায়ফা ও তানজিদ তাবলীগের কাজে পাটুয়াখালী ছিলেন। সোমবারই তারা সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেছেন।