September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

সৌদি পাঠাতে জেলায় জেলায় নারী শ্রমিক বাছাই শুরু ২৪ মে

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গৃহকর্মী হিসেবে বিনা খরচে সৌদি আরবে পাঠানোর লক্ষ্যে আগ্রহী নারী শ্রমিকদের বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী ২৪ মে। দেশের ৪২টি জেলা জনশক্তি কর্মসংস্থান অফিস ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত চলবে এই বাছাই।

মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম মজুমদার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, সৌদি আরব সরকার প্রায় ৫০ হাজার গৃহকর্মী নিতে প্রস্তুত। এ পরিস্থিতিতে দেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে নারী শ্রমিক বাছাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা চলতি মাসের ২৪ তারিখ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত তাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী নারী শ্রমিক বাছাই করবে। ৪২টি জেলায় অবস্থিত জেলা জনশক্তি কর্মসংস্থান অফিস ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ প্রক্রিয়া চলবে।

আগ্রহীরা সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে বিস্তারিত জানতে ও নিবন্ধন করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে গত বৃহস্পতিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, আসন্ন পবিত্র রমজানের আগেই ২০ হাজার নারী শ্রমিককে সৌদি আরবে পাঠানো হবে। সেদিন রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে বাংলাদেশ সফররত সৌদি  প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি একথা জানান।

মন্ত্রী বলেছিলেন, সৌদি আবরের সরকার এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের জন্য শ্রম বাজার উন্মুক্ত করে। পরবর্তীতে দেশটির সঙ্গে চুক্তির আলোকে বাংলাদেশ থেকে ৫ লাখ নারী শ্রমিক নেওয়ার কথা জানায় তারা। দেশটি ইতোমধ্যে ৫০ হাজার নারী শ্রমিক নেওয়ার প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছে। রমজানের আগেই তারা ৫০ হাজার গৃহকর্মী নিতে চায়। তবে আমাদের প্রস্তুতি ও পর্যাপ্ত নারী শ্রমিকের চাহিদা না থাকায় ২০ হাজারের বেশি শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের প্রতিনিধি দল বাংলদেশে এসে ভিসা প্রস্তুত থাকার বিষয়টি  জানিয়েছেন। আমরা আমাদের ১০০ রিক্রুটিং এজেন্সিকে ২০০ করে নারী শ্রমিক প্রস্তুত করার নির্দেশনা দিয়েছি। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো খুব শিগগিরই নারী শ্রমিক সংগ্রহ করে সৌদি পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানোর জন্য সারাদেশে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছে। তবে নিবন্ধনে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবের সঙ্গে ৮০০ রিয়েল বেতনের যে চুক্তি হয়েছে; তা একজন গৃহশ্রমিকের সর্বনিন্ম বেতন। কাজ ও দক্ষতার ওপর নির্ভর করে বেতন এর চেয়ে বেশিও হবে। তাই কম বেতনের অজুহাত দিয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকা ঠিক নয়।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরব বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ শ্রমবাজার। দেশটিতে ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত। ২০০৮ সালে বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল সৌদি সরকার।

গত জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের দেশটিতে সফরের পর বাংলাদেশের জন্য শ্রম বাজার খুলে দেয় তারা। পরবর্তীতে ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সফরে এসে নারী শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে চুক্তি করে সৌদি প্রতিনিধি দল। চুক্তির আলোকে প্রতি মাসে ১০ হাজার নারী শ্রমিক নেওয়ার কথা থাকলেও সব চূড়ান্ত করে সম্প্রতি বাংলাদেশে এসে ভিসা প্রস্তুতির বিষয় জানায় সৌদি প্রতিনিধি দলটি।