September 19, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বাজেটে অগ্রাধিকার পাচ্ছে স্থানীয় সরকার

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : স্থানীয় সরকার খাতকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে তৈরি হচ্ছে আসন্ন ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট। সরকারের নেওয়া নানামুখী কার্যক্রমের সাফল্য জনসাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এটি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার একটি ভিশন সরকারের আগে থেকেই ছিল। এটিকে এবার আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জানা গেছে, জনগণকে কার্যকর উপায়ে সরকারের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন মৌলিক সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সুস্পষ্ট স্তরবিন্যাসের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ন্যস্ত করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। স্বচ্ছতার স্বার্থে সর্বস্তরে ই-গভর্নেন্স সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তাও করা হবে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে। এ সব কারণেই অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় স্থানীয় সরকার খাতকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

এবারের বাজেটে গুরুত্ব পাওয়া অন্য খাতের মধ্যে রয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাত। ২০১০ সালে করা খানা জরিপের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে এ খাতের সুবিধাভোগীর সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার ২৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এ খাতে গত অর্থবছর বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বলয় আগের তুলনায় বাড়বে। বাড়বে সুবিধাভোগীর সংখ্যাও। আগামী বাজেটে শতাংশের হিসাব এমন থাকলেও মোট অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ বাড়বে।

এ বছর সড়ক যোগাযোগ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও নতুন সড়ক নির্মাণে কোনও বরাদ্দ থাকবে না বলে অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ইআরএফ-এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আর কোনও নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হবে না। বিদ্যমান সড়ক, মহাসড়কগুলো রক্ষণাবেক্ষণেই কেবল বরাদ্দ থাকবে। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

সরকারের জন্য পুরোপুরি চ্যালেঞ্জিং খাত হচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। দেশি-বিদেশি নতুন বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন নির্ভর করছে এ খাতের উন্নয়নের ওপর। বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে সরকারের মনোযোগ রয়েছে। এ খাতে সরকারের ৮ মেগা প্রকল্পের দ্রুত ও সঠিক সময়ে বাস্তবায়নের দিকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট বরাদ্দের অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন হলে সে ক্ষেত্রে অর্থের অভাবে প্রকল্পের কাজ যেন বন্ধ না হয়, সেদিকটা ঠিক রাখতে কিছু বাড়তি বরাদ্দ রাখা হতে পারে। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের মূল বাজেটের ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল এ খাতে।

গতবছরের তুলনায় পর্যটন শিল্পখাতে নানামুখী সুযোগ সুবিধা বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বাজেট সংশ্লিষ্টরা। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নতুন অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান পর্যটন কেন্দ্রগুলো ছাড়াও নতুন-নতুন পর্যটন স্পট খুঁজে বের করতে বরাদ্দ থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে পর্যটন মন্ত্রণালয়। পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বাজেট ভাবনায়ও এ খাতের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বছর এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ১৬০ কোটি টাকা। যদিও পর্যটন কেন্দ্রগুলোয় যাওয়ার জন্য যে সড়কগুলো নির্মিত হয়, সেই সড়ক নির্মাণের ব্যয় এই বরাদ্দের বাইরে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রস্তুত করার কাজে নিয়োজিত একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে স্থানীয় সরকার খাতে বরাদ্দ বাড়বে। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে মোট বাজেটের ৭ দশমিক ১ শতাংশ। অতীতের মতো এবারের বাজেটেও তথাকথিত সর্বোচ্চ বরাদ্দ থাকবে শিক্ষা খাতে। চলতি বছর মোট বাজেটের ১৩ দশমিক ১ শতাংশ অর্থই বরাদ্দ ছিল এ খাতে। নতুন বাজেটে শতাংশের হিসাব না বাড়লেও মোট পরিমাণ বাড়বে বলে ধারণা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট সংশ্লিষ্টরা।

এবারের বাজেটে সরকারকে জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে চালু হলে এ খাতে ৫৫ থেকে ৬২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় বাড়বে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, এবারও বাজেট বাড়বে। অনুমান করা হচ্ছে এবছর ২ লাখ ৯৩ হাজার কোটির কম বেশি টাকার বাজেট হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সব খাতেই চলতি বছরের তুলনায় বরাদ্দ বাড়বে, এটি নিঃসন্দেহেই বলা যায়। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে। এটি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলবে। তাই কোনও বিষয়ই চূড়ান্ত করে বলা যাবে না।