September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ভাসমান অভিবাসীদের উদ্ধারের নির্দেশ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

বিদেশ ডেস্ক : সাগরে নৌযানে ভাসতে থাকা অভিবাসন-প্রত্যাশীদের উদ্ধারে নির্দেশ দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। দেশটির প্রধানমন্ত্রী তার ফেসবুকে সাগরে আটকা পড়াদের জন্য স্থল ও সাগর পথে মানবিক সহায়তা দেওয়ার কথাও বলেছেন বলে বিবিসি ও বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নাজিব রাজাক তাঁর ফেসবুকে সমুদ্রে নৌযানে ভাসতে থাকা অভিবাসন-প্রত্যাশীদের খোঁজ ও উদ্ধারে অভিযানে চালাতে দেশটির নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এর আগে জাতিসংঘের আহ্বানের পর বুধবার কুয়ালালামপুরে জরুরি বৈঠক করে সাগরে ভাসমান প্রায় সাত হাজার ‍মানুষকে সাময়িকভাবে আশ্রয় ‍দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। তবে এরপর আর কাউকে এ সুযোগ দেওয়া হবে না।

বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা বলেন, তাঁরা অভিবাসন-প্রত্যাশীদের পুনর্বাসন ও প্রত্যাবর্তনের প্রস্তাব দিচ্ছেন।

এ প্রস্তাবের আগে চলতি মাসেই ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন তিন হাজারের বেশি অভিবাসী। অবশ্য কিছুদিন ধরে আন্তর্জাতিক আহ্বানকে পাত্তা না দিয়ে দেশ দুটির পাশাপাশি থাইল্যান্ড ভেসে চলা অভিবাসন-প্রত্যাশীদের উপকূলে ভিড়তে না দিয়ে মধ্য সাগরের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। ওই বৈঠকে থাইল্যান্ড অংশ নিলেও অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে দেশটির পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।

নাজিব রাজাক তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ক্ষুধার্ত ও অসুস্থকে সহায়তা দেওয়া ‘মৌলিক মানবিক সহমর্মিতা’। তিনি বলেন, ‘প্রাণহানি ঠেকাতে’ দেশের নৌ ও সমুদ্রসীমা কর্তৃপক্ষকে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাতে হবে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি অ্যান্টনি ব্লিংকেন মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার জন্য আসার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই বৈঠককে যুগান্তকারী ভাবা হচ্ছে। কারণ দীর্ঘ দিন ধরে এই সংকটের দায় অস্বীকার করে আসছে দেশটি। এমনকি অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া বুধবারের বহুদেশীয় আঞ্চলিক বৈঠকেও অংশ নেয়নি মিয়ানমার।

এর মধে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলেছে, তারা এসব অভিবাসীদের সহায়তা দিতে প্রস্তুত এবং তাদের পুনর্বাসনে বহুদেশীয় প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেবে।

বুধবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র মেরি হার্ফ বলেন, “আমরা এর মধ্যেই এক হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসন করেছি।

“জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) উদ্যোগে সংগঠিত প্রচেষ্টায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা নিতে আমরা প্রস্তুত। আমরা অবশ্যই সবার দায়িত্ব নিজেরা নিতে পারব না। তবে এই প্রচেষ্টায় আমরা নেতৃস্থানীয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।”