June 18, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

মধুমাসে লিচু!

 জীবনশৈলীডেস্ক: বিশেষণ হিসেবে ‘টসটসে’ কথাটি সবচেয়ে বেশি যায় বোধহয় লিচুর সঙ্গেই। গ্রীষ্মকালে ‘রূপে গুণে’ অনন্য এই রসালো ফলটির জনপ্রিয়তাও থাকে একদম তুঙ্গে। স্বাদে-গন্ধে তো বটেই সালাদ, জুস, জেলির মতো বিচিত্র রেসিপির উপাদান হিসেবে লিচু পয়লা নম্বরের ফল।

বাংলাদেশের সব জায়গাতেই কমবেশি লিচু হয়। তবে উত্তরবঙ্গের রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল লিচু উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

পুষ্টিগুণের দিক থেকে বলতে গেলে বলা যায়, এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘সি’। ক্যালসিয়াম দরকার হয় হাড়, দাঁত, চুল, ত্বক, নখ ভালো রাখতে। পুষ্টিমান হিসাবে ১০০ গ্রাম লিচুতে থাকে শর্করা ১৩.৬ গ্রাম, ক্যালরি ৬৬, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৭ মিলিগ্রাম ও ভিটামিন ‘সি’ ৩১ মিলিগ্রাম। এছাড়াও স্বল্প পরিমানে শর্করা, ডায়েটারি ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও সোডিয়ামও আছে। বলা হয়ে থাকে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দৈনন্দিন ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণে নয়টি লিচুই যথেষ্ট।

লিচুতে সম্পৃক্ত চর্বি (স্যাচুরেটেড ফ্যাট) ও কোলেস্টরল তো নেই বরং আছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। লিচু রক্তের প্রবাহ ঠিক রাখতে সাহায্য করে ও সূর্যের ক্ষতিকারক অতি বেগুনী রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে বাঁচায়।

লিচুতে বিদ্যমান ভিটামিন সি-মানবদেহে ক্ষতিকর জীবাণুগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। লিচুতে যথেষ্ট খনিজপদার্থ যেমন পটাসিয়াম ও কপার পাওয়া যায়। পটাসিয়াম শরীরের কোষ, রক্তপ্রবাহ, হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ ও ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। এটি করোনারি হার্টের অসুখ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

শরীরে রক্ত লোহিত কণিকা গঠনে লিচুতে থাকা কপার সহায়তা করে। রিবোফ্লাবিন মুখ ও জিহ্বার ঘা সারাতে দারুণভাবে সাহায্য করে। আর শরীরের হাড়, দাঁত, চুল, নখের জন্য লিচুতে আছে যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালসিয়াম। নিয়াসিন জিহ্বার রোগ, শরীরের জ্বালাপোড়া ও দুর্বলতাকে দূরে রাখবে। ত্বকের লাবণ্য বাড়াতে লিচুর উপাদান বেশ কার্যকর। যারা বয়সের ছাপ গোপন রাখতে চান তারা লিচুর ওপর ভরসা রাখতে পারেন। এটি বয়সের বলিরেখা মুছে দিতেও বেশ কার্যকর।

লিচু বাজারে থাকেও খুব অল্প কয়েকদিন। তাই আগেভাগেই স্বাদ নেওয়া উচিত অমৃতসম এই মৌসুমী ফলের। এই মৌসুমে ঢাকাসহ দেশের যেকোন কাঁচা বাজার বা ফলের দোকানে বিভিন্ন জাতের ও মানের লিচু পাওয়া যাচ্ছে। বাজার ঘুরে জানা যায় এখন প্রতি ১০০টি লিচু বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়। জাত ভেদে অবশ্য দরদাম করার সুযোগ আছে। কিন্তু সুপারশপগুলোতে গেলে কিনতে হবে ওই নির্ধারিত মূল্যেই।

বাজার থেকে কেনা তাজা লিচু কক্ষ তাপমাত্রায় ২-৩ দিন সংরক্ষণ করা যায়। এক্ষেত্রে লিচুর খোসা শুকিয়ে গেলে পানি ছিটিয়ে আর্দ্রতা ধরে রাখা যায়। তবে ফ্রিজে রেখে ৩০-৩৫ দিন পর্যন্ত লিচু ভালো রাখা যায়।

যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের লিচুর প্রতি লোভটা সামলে চলা উচিত। কারণ এতে থাকা চিনি বাড়িয়ে দিতে পারে ডায়াবেটিসের মাত্রা।