September 17, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

মানবপাচার: মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদক : মানবপাচারে জড়িতদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এবিষয়ে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয় গণমাধ্যম কেন্দ্রে সাংবাদিকদের মুখোমুখি অনুষ্ঠান ‘বিএসআরএফ’ সংলাপে তিনি একথা জানান।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিদেশে পাচার হওয়াদের দেশে ফিরিয়ে এনে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে। এরপর দোষীদেরকে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে। এর সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এবিষয়ে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছেন।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে জেলেনৌকা করে কেউ যেতে না পারে এজন্য জেলেদের আইডিকার্ড এবং নৌযানগুলোকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হবে। ফলে এ নৌযানের মালিকানা ও মাঝিদের চিহ্নিত করা হবে। মানবপাচারের দায়ে এ সংক্রান্ত আইনের সফল প্রয়োগের জন্য সরকার তিনটি বিধিমালা তৈরি করছে। যা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সীমানায় ভাসমান কোনো অভিবাসী নেই। যে দেশের সীমানায় তারা রয়েছে তারা এখন ব্যবস্থা নেবে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত আনার জন্য বাংলাদেশকে জানালে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এজন্য দেশের নেভি ও কোস্ট গার্ড প্রস্তুত রয়েছে।”

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, “বাংলাদেশের ৪৫০ বর্হমালল এলাকা রয়েছে, যা খুবই দুর্বল। এসব এলাকা দিয়ে কোনো বাংলাদেশির দেশ ত্যাগ করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে রোহিঙ্গারা যেতে পারে। মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবি ও এদের বেশভূষা দেখে মনে হয়নি যে তারা সব বাংলাদেশের। তবে এদের কেউ কেউ বাংলায় কথা বললেও সবাই বাংলাদেশ থেকে যায়নি।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সীমানায় যারা ভাসমান ছিল তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিদেশের সীমানায় যারা রয়েছে তাদের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অন্য দেশের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেশের মধ্যে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৩০ বা ৩৫ হাজার উল্লেখ করা হলেও প্রকৃত সংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি।”

আসাদুজ্জামান আরো বলেন, “বাংলাদেশে থেকে কেউ গেলে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে যাবে না। দু’একজন হয়ত কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যেতে পারে। এরা মনে হচ্ছে মায়ানমার থেকে সপরিবারে অন্যদেশে আশ্রয় নেয়ার উদ্দেশ্যেই জাহাজে করে যাত্রা করেছিল।”