June 23, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

রাজস্ব আহরণে আবারও অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রায় এনবিআর

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : গত কয়েক অর্থবছরের মতো আগামী অর্থবছরেও রাজস্ব আহরণের অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে ২৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটির টাকার রাজস্ব আহরণের চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে রাজস্ব আহরণের সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর তা অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবনায় পেশের জন্য প্রস্তুত করা হবে জানিয়েছে এনবিআর সূত্র।

সূত্র জানায়, আয়করকে রাজস্ব আহরণের প্রধান খাত ধরে আগামী অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে রাজস্ব বোর্ড। ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আয়কর খাতে ৬৫ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাটে ৬৩ হাজার ৯০২ কোটি টাকা ও আমদানি রপ্তানি পর্যায়ে শুল্ক খাতে ৪৬ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

করজাল বাড়ানোর পরিকল্পনায় এ লক্ষ্যমাত্রাকে এনবিআর ইতিবাচক দেখলেও তা বাস্তবায়নযোগ্য নয় বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে এনবিআর।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরই বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে শেষ বেলায় তা থেকে সরে এসেছে এনবিআর। চলতি অর্থবছরে ২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও পরে ১৫ হাজার কোটি টাকা কমাতে হয়েছে। এরপরও এবার ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা অবাস্তবের ধারাবাহিকা রক্ষারই নামান্তর।

এনবিআর সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরুতে ২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল এনবিআর। এর মধ্যে মূসকে ৫৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, আয়করে ৫৬ হাজার ৫৮০ কোটি, শুল্কে ৩৫ হাজার ৭২০ কোটি ও অন্যান্য কর বাবদ ৯২০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছরের ৯ মাসে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৫৭ শতাংশ অর্জিত হওয়ায় তা থেকে সরে আসে সংস্থাটি। এপ্রিল মাসের শেষ দিকে ১৪ হাজার ৭২০ কোটি টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকার নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১১ হাজার কোটি কমিয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল; যা বছরের শুরুতে নির্ধারণ করা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ দশমিক ০৮৮ শতাংশ কম। আর ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১ লাখ ১২ হাজার ২৫৯ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ১ লাখ ৮ হাজার ৬১৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। সে বছর ঘাটতি ছিল ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ধারাবাহিক ঘাটতির পরও বিশাল লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, গত কয়েক বছর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যায়নি। তবে আগের সব বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি বেশ ভালো ছিল। আগামী অর্থবছর থেকে রাজস্ব আহরণের সব ক্ষেত্রে সহজতর ও ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। করের আওতা বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণে গতি বাড়ানোর জন্যই উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।