October 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

রাজীব হত্যা মামলার নতুন করে অভিযোগ গঠন

আদালত প্রতিবেদক : ব্লগার রাজীব হায়দার শোভন হত্যা মামলার নতুন করে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার দ্রুত বিচার-৩-এর বিচারক সাঈদ আহম্মেদ নতুন করে অভিযোগ গঠন করে ২৭ মে সাক্ষ্যের জন্য দিন ধার্য করেন।

 এর আগে চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটি বিচারাধীন ছিল।  ওই কোর্টে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। কম সময়ের মধ্যে বিচারটির নিষ্পত্তির জন্য গত ১১ মে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ হয়।

২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাসায় ফেরার পথে পল্লবীর কালশীর পলাশনগরে আততায়ীর হাতে নিহত হন শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা রাজীব হায়দার শোভন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ডা. নাজিম উদ্দীন পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ সিএমএম আদালতে আট জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে ৫৫ জনকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, মামলার আসামি আনসারুল্লার প্রধান মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে দুটি মসজিদে জুমার খুতবায় ধর্মের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে- এমন ব্লগারদের হত্যার ফতোয়া দিতেন। মামলার অন্য আসামিরা সবাই নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং তারা ওই খুতবা শুনতেন। এভাবে তাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, জসীম উদ্দিনের লেখা বই পড়ে এবং সরাসরি তার বয়ান ও খুতবা শুনে ‘নাস্তিক ব্লগার’দের খুন করতে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত হন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ব্লগার রাজীব খুন হন। রাহমানীকে এই হত্যায় উৎসাহদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পেশায় স্থপতি রাজীব ব্লগ লিখতেন ‘থাবা বাবা’ নামে, যেখানে ধর্মান্ধতা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতাকারীদের বিপক্ষে লেখা হতো।

অভিযোগপত্রে উল্লেখিত আট আসামি হলেন- নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল বিন নাইম ওরফে দিপু (২২), মাকসুদুল হাসান অনিক (২৬), এহসানুর রেজা রুম্মান (২৩), মো. নাঈম সিকদার ওরফে ইরাদ (১৯), নাফির ইমতিয়াজ (২২), সাদমান ইয়াছির মাহমুদ (২০), মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী ও রেদোয়ানুল আজাদ রানা (৩০)।

চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে রানা পলাতক ও অপর আসামিরা গ্রেফতার হয়েছেন। তারা আদালতে রাজীব হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

২০১৫ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রুহুল আমিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।