October 23, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

শরীর জুড়াতে ঘাম আর ঘাম জুড়াতে?

জীবনশৈলী ডেস্ক:বছরের এমন সময়ে কর্মব্যস্ত দিনে নিত্যসঙ্গী ঘাম। বাতাসে বাড়তি আর্দ্রতার কারণে একটু খাটাখাটুনি করলে বা গরম বেশি পড়লে এমনকি বাসে বসে বসেই আক্ষরিক অর্থে ঘাম ছুটে যাচ্ছে। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্যই আসলে ঘাম বের হয়। তাই অস্বস্তি লাগলেও আতঙ্কের কিছু নেই। তবে অতিরিক্ত ঘাম শরীরের জন্য ভালো নয়। এতে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায় শরীর থেকে। স্বাস্থ্য বিষয়ক বেশ কিছু ওয়েবসাইট ঘেঁটে জানা গেল ঘাম নিয়ন্ত্রণের কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি।

ভিনেগার ও তেলের মিশ্রণ

১২০ মিলি লিটার লাল ভিনেগার ও ৩০ ফোঁটা অলিভ অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে একটি বোতলে মুখ শক্ত করে লাগিয়ে রাখতে হবে। এরপর ১ সপ্তাহ বোতলটি না খুলে ঠাণ্ডা, শুষ্ক ও অন্ধকার স্থানে রেখে দিন যাতে মিশ্রণটি একসঙ্গে মিশে যায়। ১ সপ্তাহ পর থেকে প্রতিবার গোসল করার সময় পানিতে ৩ টেবিল চামচ এই মিশ্রণটি মিশিয়ে নিন। অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার হাত থেকে আপনি অনায়াসে মুক্তি পাবেন।

অ্যাপল সাইডার ভিনেগার

অতিরিক্ত ঘাম হওয়া স্থানগুলো ভালো মতো পরিষ্কার করে নিতে হবে। তারপর তুলার বলে অ্যাপল সাইডার ভিনেগার নিয়ে ওই স্থানগুলোতে লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিন। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে গোসল করে পাউডার বা ডিওডোরেন্ট লাগিয়ে নিন। ত্বকে ব্যবহার করে ঘাম নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি অ্যাপল সাইডার ভিনেগার নিয়মিত খেলে ত্বকের পিএইচ স্তরও ঠিক থাকে।

বেকিং সোডা

বেকিং সোডা প্রাকৃতিক ভাবে শরীরের ঘাম শোষণ করে ও দুর্গন্ধ কমায়। এছাড়া শরীরের যে অংশ বেশি ঘামে সেখানের পিএইচ লেভেলের মাত্রা কমাতেও বেকিং সোডা সাহায্য করে। পরিমাণমতো পানির সঙ্গে ১ টেবিল-চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন। তারপর এই পেস্টের সঙ্গে পছন্দমতো তিন থেকে চার ফোঁটা সুগন্ধী তেল মিশিয়ে নিয়ে বগলে এবং যে সব জায়গা বেশি ঘামে সেসব জায়গায় লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ঘাম কমবে এবং ফ্রেশ লাগবে।

লাল চা

তিন থেকে চার কাপ গরম পানিতে একটি বা দুইটি টি-ব্যাগ ভিজিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। তারপর ওই পানিতে পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে বগল ও গলায় লাগিয়ে নিন। এসময় কারো কারো অতিরিক্ত হাত-পা ঘামে। এমন সমস্যা হলে একই পদ্ধতিতে সমাধান পাবেন। হাত ও পায়ের ঘাম নিয়ন্ত্রণ করতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট চাপাতা মিশ্রিত পানির ভেতর হাত-পা ডুবিয়ে রাখুন। সেক্ষেত্রে পানির পরিমাণ আরও বাড়িয়ে নিন। সপ্তাহে একদিন এই পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে এবং প্রতিদিন দুই থেকে তিনকাপ লাল চা পান করলেও ভালো ফল পাবেন। লাল চা’য়ে থাকা ট্যানিক অ্যাসিড ঘাম প্রতিরোধ করতে পারে। এছাড়া লাল চা ঘাম গ্রন্থি সংকোচন করে অতিরিক্ত ঘামানোর হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে। পাশাপাশি শরীরের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণু ধ্বংস করতেও লাল চা সমান কার্যকারী।

লেবু

এক গ্লাস পানিতে পরিমাণমতো লেবুর রস মিশিয়ে সেটা দিয়ে তোয়ালে ভিজিয়ে সারা শরীর ভালোভাবে স্পঞ্জ করে ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করে ফেলতে হবে। এভাবে প্রতিদিনই গোসলের আগে গায়ে লেবুর রস মিশ্রিত পানি স্পঞ্জ করে নিতে হবে। প্রাকৃতিক ডিওডরেন্ট এই লেবু ঘাম থেকে তৈরি দুর্গন্ধও দূর করতে সাহায্য করে।

কোনও কারণ ছাড়াই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণে ঘাম হলে বুঝতে হবে হাইপারহাইড্রোসিসের সমস্যা রয়েছে। সেক্ষেত্রে অনতিবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।