October 24, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

শিক্ষাব্যবস্থার ওপর অশুভ থাবা

গত ৯ ই মে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী অত্যন্ত অশালীন ভাষায় দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, জনপ্রিয়   বিজ্ঞানলেখক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারকে আক্রমণ করেছেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, মুহম্মদ জাফর ইকবালকে সিলেটবিদ্বেষী আখ্যা দিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী বলেন, “আমি যদি বড় কিছু হতাম তাহলে জাফর ইকবালকে কোর্ট পয়েন্টে ধরে এনে চাবুক মারতাম”।

মহান জাতীয় সংসদের একজন সদস্যের মুখে এ ধরণের বক্তব্য পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক। আমাদের প্রাণপ্রিয় শিক্ষকের প্রতি জাতীয় সংসদের একজন সদস্যের এই আচরণে আমরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। আমরা মনে করি এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার ওপর রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের অশুভ থাবারই একটি অংশ।

একজন সংসদ সদস্যের এই আচরণ আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে কাদের হাতে আমরা দেশের শাসনভার তুলে দিয়ে নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করছি? একজন আইন প্রণেতার মনোভাব যদি এই হয় তাহলে আইনের শাসন নামক সোনার পাথরবাটি কি আদৌ সম্ভব?

আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম, যেখানে আইনপ্রণেতা একজন সম্মানিত শিক্ষককে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করবে? আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম যেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের একজন সন্তানের গায়ে হাত তোলার হুমকি দেবে ক্ষমতাশালী কোনো রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত?

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ১৩ মে ২০১৫, বুধবার দুপুর ১২টায় টিএসসির রাজু ভাষ্কর্যে প্রতিবাদী মানববন্ধন ও মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরীর কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে। শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নমুক্ত রাখতে দেশের সকল শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদে অংশ নেয়ার বিনীত আহ্বান জানানো হয়েছে।

সর্বস্তরের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে শুভেচ্ছাসহ-

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়