October 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

পাবনার ক্রিকেটার বাদশা এখন উত্তরার রিকসাচালক!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান পারফরমেন্সে আমরা খুব খুশি। কিছুদিন আগে ভারত মউকা মউকা করায় আমরা আবেগে আপ্লুত হই, রাগে ফেটে পড়ি। আমাদের ক্রিকেটকে নিয়ে আমরা গর্ব করি, ভালবাসি। ক্রিকেট থেকে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ আয় করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রয়েছে হাজারো ক্রিকেট ফ্যানপেইজ।

ক্রিকেট খেলোয়াড় বা আইডল একজনের কিছু তথ্য জানতে পেরে রীতিমত বিস্মিত হলাম! নিচে যার ছবি দেখছেন, তার নাম বাদশাহ। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট বোর্ড-এর এই খেলোয়াড় বাদশা এখন রিকশা চালান।

বাদশা একসময় পাবনা ডিভিশন টিমের ক্যাপ্টেন আর দেশ কাঁপানো ওপেনার। কিন্তু তিনিই এখন রিকশা ড্রাইভার। কোনো এক সময় জাতীয় টেস্ট দলে ডাক পেয়ে ছিলেন বাদশাহ। তিনি রাজশাহী ডিভিশন ক্রিকেট টিমের উইকেট কিপার ছিলেন। সবাই তার ব্যাটিং স্টাইলের প্রশংসা করতেন। কিন্তু তার ভাগ্যে যেন এসব সইছিল না। পাবনা জেলার সাবেক এই ক্রিকেটার মো. বাদশার পরের জীবন কাহিনী সত্যিই নির্মম।

সৎ এবং সদা হাস্যোজ্জ্বল এই মানুষটি এখন পথে পথে ঘুরছেন। হাসিমুখটি দেখে কেউ কি বুঝবেন তার বুকের ভেতর চলছে কেমন দহন?

বাদশার বাড়ি পাবনা জেলার নয়নামতি এলাকায়। পড়াশোনা রাজানগর মজুমদার হাইস্কুলে। স্কুলে পড়ার সময় অসাধারণ ক্রিকেট খেলতেন তিনি। এরপর পাবনা ও পরবর্তী সময়ে রাজশাহীর হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন। ছিলেন দাপুটে ওপেনার ও উইকেটরক্ষকও। পরে স্টুডেন্ট ভিসায় লন্ডন গিয়ে এমবিএ করেন তিনি। একসময় বেশ কিছু অর্থ-সম্পত্তিও হয় তার। কিন্তু যাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন, সেই স্ত্রীর নির্মম প্রতারণা শিকার হন বাদশা। স্ত্রী সহায়-সম্পত্তি বাগিয়ে নিয়ে একমসয় সুযোহ বুঝে তাকে ছেড়ে চলে যান।

স্ত্রী ও কষ্টার্জিত ধন-সম্পত্তি হারিয়ে ক্রিকেটার বাদশা মানসিক ভারসাম্যও হারিয়েছেন কিছুটা। বছর দেড়েক আগে তাকে পাবনার বিভিন্ন মসজিদে জুমার নামাজ শেষে ভিক্ষা করতেও দেখা যেতো।

সম্প্রতি এই ক্রিকেটারকে রাজধানীর উত্তরায় রিকশা চালাতে দেখা গেছে। একজন তরুণ তার এই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেন। সেটা ছড়িয়ে দেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ভিডিওতে দেখা যায় শুদ্ধ উচ্চারণে ব্রিটিশদের মতো ইংরেজি বলছেন বাদশা। তবে তাকে দেখলেই বোঝা যায় কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন তিনি।

এ বিষয়ে রাজানগর মজুমদার হাইস্কুলে তার সহপাঠী মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘বাদশা ভাইকে দেখে সত্যিই খুব খারাপ লেগেছে। আমরা একই স্কুলে পড়তাম। উনি আমার এক ব্যাচ সিনিয়র ছিলেন। আমরা একই সঙ্গে ক্রিকেট খেলতাম। দুর্দান্ত খেলতেন তিনি। স্কুলজীবন শেষে আমি পড়তে বগুড়া চলে যাই। এরপর ভাইয়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে। মাঝেমধ্যে এলাকায় এলে কথা হতো। কিন্তু উনি বিদেশ যাওয়ার পর আর যোগাযোগ হয়নি। হঠাৎ গতকাল ফেসবুকে ওনার এই করুণ পরিস্থিতি দেখলাম।’