September 18, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

তিন বঙ্গ কণ্যার বিজয়ের পর এবার মেয়র প্রার্থী মতিউর

যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি : তিন বঙ্গ কণ্যার ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিজয়ের পর এবার লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুণ সমাজকর্মী এম ডি মতিউর রহমান।
আগামী ১১ জুন টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলে মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেট মূলত বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা। বাংলাদেশীদের প্রাণকেন্দ্র এখান থেকেই আরেক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত লুতফর রহমান গত দু’বার মেয়র নির্বাচিত হন। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে ভোট জালিয়াতি ও নির্বাচনে ধর্মের অপব্যবহারের অভিযোগে গত ২৩ এপ্রিল ব্রিটেনের আদালত তাকে বরখাস্ত করে এবং নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। এর প্রেক্ষিতে টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলে পুনরায় মেয়র নির্বাচন হচ্ছে।
এদিকে, বাংলাদেশী অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে আরেক বাংলাদেশীকে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা। বাঙালি কমিউনিটির সদস্যরা তাকে বিজয়ী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। একমাত্র বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রার্থী হিসেবে মতিউরের বিজয়ের প্রবল সম্ভবনা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন প্রবাসীরা।
স্থানীয় কমিউনিটি নেতা আওলাদ আলী রেজা বাসসকে বলেন, ‘বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মেয়র লুতফর রহমানকে বরখাস্তের পর আরেক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মতিউর রহমান নানু সাহেব প্রার্থী হওয়ায় আমরা উচ্ছ্বসিত। সমাজকর্মী হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে তার যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন। আমরা আশা করছি নানু সাহেব মেয়র নির্বাচিত হলে প্রশাসনিক দক্ষতারও পরিচয় দেবেন। তার দ্বারা বাঙালি কমিউনিটির সদস্যরা উপকৃত হবেন।’
লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশীরা জানান, টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলের মোট ৮ জন মেয়র প্রার্থী থাকলেও নির্বাচনে মূলত মতিউর রহমান ও লেবার পার্টির প্রার্থী জন বিগসের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
এদিকে মতিউর রহমান মেয়র নির্বাচিত হলে ৫ হাজার সোস্যাল হাউজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বাসসকে বলেন, পূর্ব লন্ডনে স্বল্প আয়ের মানুষের ‘হাউজিং’ হলো মূল সমস্যা। মেয়র নির্বাচিত হলে এই সমস্যার সমাধানে আমি ৫ হাজার বাড়ী নির্মাণ করবো। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। যেসব বাড়ি বা অফিসে লিফটের সমস্যা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সংস্কার করবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য লাঞ্চ মানির ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, টাওয়ার হ্যামলেট এলাকায় বিশষে করে বাঙালি কমিউনিটিতে দীর্ঘদিন বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন নানু সাহেব নামে পরিচিত এই সমাজকর্মী। প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যায় এগিয়ে আসেন বলে সুনাম আছে তার। প্রবাসীদের সেবায় স্বাস্থ্য সেবামূলক কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।
সুনামগঞ্জের ছাতকের সুহিতপুর গ্রামের মৃত হাজী মাওলানা জাইফর আলীর কনিষ্ঠ পুত্র নানু সাহেব। শৈশবে তিনি বাবার হাত ধরে পাড়ি জমান ব্রিটেনে। বাবার সাথে পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস্ আবাস গড়েন। সেখানেই বেড়া উঠা। লেখাপড়া করেছেন টাওয়ার হ্যামলেট কলেজ, লন্ডন এসএস ইন্টারন্যাশনাল কলেজ ও লন্ডন ভিপিপি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আইনের ওপর নিয়েছেন উচ্চতর ডিগ্রী।
নানু সাহেবের টাওয়ার হ্যামলেটে রয়েছে পারিবারিক ব্যবসা। তার পরিবার সেখানে চক্ষু হাসপাতাল পরিচালনা করছেন। ব্যাক্তিগত জীবনে নানু সাহেব এক কণ্যা সন্তানের পিতা।