June 17, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

শ্রম আদালতে ঝুলে আছে দশ হাজার মামলা

বিশেষ প্রতিবেদক : কুমিল্লা দেবিদ্ধারের বাসিন্দা আজম হোসেন। তিনি উত্তরার এপেরালস নামক একটি গার্মেন্ট কারখানার শ্রমিক। তুচ্ছ ঘটনায় ২০১০ সালের আগস্টে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

পরের বছরই তিনি পাওনা আদায়ের জন্যে দুই লক্ষ একুশ হাজার টাকা এবং চাকরি ফিরে পেতে মামলা করেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে। যার নম্বর বিএল মজুরী মামলা নং- ২০৫৯/১১। পাঁচ বছরেও মামলার নিষ্পত্তি হয়নি।

আজম বলেন,  “৫ বছর আদালতে ঘুরতে ঘুরতে হয়রান হয়ে গেছি। যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি তাঁরা বড় বড় কারখানার মালিক। তাঁরা কৌশলে তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করে মামলা ঝুলিয়ে রাখছেন।”

আজম এখন অন্য একটা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন। প্রত্যেক তারিখে বিচারের আশায় অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আদালতে আসতে হয়।

তিনি আরো বলেন, “বিচারক মামলার রায় দিতে চাহিলে প্রতিপক্ষের আইনজীবী নানা কৌশলে আদালত থেকে সময় চেয়ে নেন। ফলে এ মামলায় রায়ের দিন দেখছিনা। অন্যদিকে আদালত প্রায় বসেন না। এতে দিনকে দিন হয়রানী হয়ে ঘুরতে হচ্ছে।”

আজমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ গাফফার হোসেন বলেন, “প্রতিপক্ষ ইচ্ছা করে এ মামলা দীর্ঘায়িত করছেন। এ ভাবে সময় নিতে থাকলে বাদী/ পাওনাদার ভবিষ্যতে আদালতে মামলা চালাতে চাইবেন না। আদালত যদি কঠোর ভাবে এ মামলা গুলো নিষ্পত্তি করে দেয় তাহলে বাদীরা তাদের পাওনা ফিরে পাবে।”

শুধু আজম নন, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী এভাবে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালসহ সারা দেশে আরো সাতটি শ্রম আদালতে ১৪ হাজার ৫২৩টি মামলা বিচারাধীন। মামলাগুলোতে বিচারপ্রার্থী লক্ষাধিক। শুধু ঢাকার তিনটি শ্রম আদালতেই রয়েছে ১১ হাজার ৪৮৯টি মামলা।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের দুই শ্রম আদালতে এক হাজার ৩৮২, বিভাগীয় শ্রম আদালত খুলনায় ৭৫৫ এবং বিভাগীয় শ্রম আদালত রাজশাহীতে ৩১৫টি মামলা বিচারাধীন।

শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে রয়েছে ৫৮২টি মামলা। বেশির ভাগ মামলাই দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।

নিষ্পত্তির হার একেবারেই কম। ফলে এসব আদালতে মামলা করেও অধিকার আদায় করতে পারছে না শ্রমিকরা। দিনের পর দিন তাদের ঘুরতে হচ্ছে আদালতে।

আর এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কোনো ব্যবস্থাও নিচ্ছে না সরকার।

ঢাকার শ্রম আদালতের সিনিয়র আইনজীবী মো. মুনজুর আলম বলেন, “শ্রম আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই আদালতগুলোতে শ্রমিকরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ বিবাদী প্রভাবশালী কারখানা মালিক ও ব্যবসায়ীরা নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে মামলার বিচারকাজ ঝুলিয়ে রাখে।”

তিনি আরো বলেন, “আদালতের বিচারকরাও সময়মতো বিচারকাজ পরিচালনা করেন না। তা ছাড়া এই আদালতগুলোর প্রতি সরকারেরও তেমন কোনো নজর নেই।”