October 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

মুজাহিদের আপিলের রায় ১৬ জুন

আদালত প্রতিবেদক : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের আপিলের রায় আগামী ১৬ জুন ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় দিন ধার্য করা হয়।

এই বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

এরআগে মুজাহিদের পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এসএম শাহজাজাহান।

গত ২৬ মে আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন।

গত ২৯ এপ্রিল মুজাহিদের মামলার আপিল শুনানি শুরু হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ দিন শুনানি গ্রহণ করেন আপিল বিভাগ।

২০১৩ সালের ১১ আগস্ট ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন মুজাহিদ। এরআগে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনীত রাষ্ট্রপক্ষের ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টি প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে ফাঁসির রায় শোনান।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগের মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মুজাহিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রথম ট্রাইব্যুালে ১০৯ পৃষ্ঠার ৩৪টি বিভিন্ন ঘটনাসহ মোট ছয় হাজার ৬৮০ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন রাষ্ট্রপক্ষ।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুর ও ঢাকাসহ সারাদেশে সাধারণ মানুষকে হত্যা, গণহত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয় মুজাহিদের বিরুদ্ধে।  ওই বছরের ২৬ জানুয়ারি এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে একই বছরের ২৫ এপ্রিল মামলাটি দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে নতুন করে অভিযোগের বিষয়ে শুনানি হয়।

২০১২ সালের ২১ জুন মুজাহিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৭টি অভিযোগে অভিযোগ গঠন করেন দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল।  ওই বছরের ১৯ জুলাই মুজাহিদের বিরুদ্ধে ২৯ পৃষ্ঠার ওপেনিং স্টেটমেন্ট (সূচনা বক্তব্য) উত্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপু, মোখলেসুর রহমান বাদল ও মীর ইকবাল হোসেন।

এরপর মুজাহিদের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাকসহ রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষী পর্যায়ক্রমে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।  ২০১৩ সালের ২২ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়।

ওই বছরের ৫ মে মুজাহিদের পক্ষে একমাত্র সাক্ষী হিসেবে সাফাই সাক্ষ্য দেন তার ছোট ছেলে আলী আহমাদ মাবরুর।

২০১৩ সালের ৬ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত এবং ৪ ও ৫ জুন মোট ৬ কার্যদিবস রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ড. তুরিন আফরোজ ও মোখলেসুর রহমান বাদল।

২০১৩ সালের ২২ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ৬ কার্যদিবসে মুজাহিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তার প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক, আইনজীবী মুন্সী আহসান কবির ও অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান।