October 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

রাস্তা ধসে ঝুঁকিতে সুন্দরবন হোটেল

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভবন নির্মাণের জন্য করা হয়েছিল গভীর গর্ত। সেই গর্তে ধসে গেল পাশের ‍পুরো গলি! বুধবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে এমন ঘটনাই ঘটেছে রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকায় সুন্দরবন হোটেলের পাশে। ঘটনার কিছুক্ষণ পরই সুন্দরবন হোটেলটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। হোটেলটি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে বেলা ১১টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।

রাজধানীর কাঁঠালবাগানের বীর উত্তম সিআর দত্ত সড়কে ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রস্তাবিত ২৫ তলা ‘টুইন টাওয়ার’-এর পাইলিংয়ের গর্তে বুধবার ধসে পড়ে সড়কের একটি অংশ। এতে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায় পাশের সুন্দরবন হোটেল। সকালে  এ ঘটনার পর সুন্দরবন হোটেলের পাশের ওই রাস্তাটি ছাড়াও কয়েকটি অস্থায়ী দোকানও পড়ে যায় গর্তটিতে।

এ ঘটনার পর সুন্দরবন হোটেলটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে অবস্থানরত সকল বোর্ডারকে হোটেল ত্যাগ করার নির্দেশ দেয় ফায়ার সার্ভিস। ইতোমধ্যে সব বোর্ডার হোটেল ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, কাঁঠালবাগানে সুন্দরবন হোটেল সংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন ভবনের পাইলিংসহ কিছু অংশ বিকট আওয়াজ করে ধসে পড়ে। এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে লোকজন ছোটাছুটি করতে থাকেন। পরে হোটেলে অবস্থানকারীরা রাস্তায় নেমে আসেন।

এ ঘটনায় সুন্দরবন হোটেলের সীমানা প্রাচীর, ঘড়িসহ বেশ কিছু অংশ দেবে যায়। এতে অস্থায়ী দোকানসহ ফুটপাতের কিছু অংশ গর্তের ভেতর ধসে পড়েছে। পানি ও গ্যাসের লাইন দিয়ে ক্রমাগত পানি ও গ্যাস বের হচ্ছে। এলাকার গ্যাস ও পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সোনারগাঁও এলাকার গ্যাস ও পানির লাইন।

এখনও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া ধসে যাওয়া স্থানগুলো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্যাপারেও কোনো তথ্য জানা যায়নি। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেন, “এলাকাটি এখন সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সবার আগে এ এলাকাটিকে সেফ জোন করতে হবে। এ জন্য সুন্দরবন হোটেল থেকে আমরা অতিথিদের সরে যেতে অনুরোধ করেছি। আমরা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলছি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এখানে রাজউককে ডেকে তাৎক্ষণিকভাবে যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা-ই নেওয়া হবে।”

এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, ‘ভবন নির্মাণের বিষয়ে রাজউকের মনিটরিং করা দায়িত্ব। কিন্তু তারা সেটা করেনি। কর্তব্যের অবহেলা করেছে। তাদের এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়া উচিত। এখানে যে দায়িত্বের গাফিলতি রয়েছে তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই।’

বুধবার বেলা ১১টার দিকে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, ‘এটা অত্যন্ত ভয়াবহ অবস্থা। এগুলো দেখভাল করার দায়িত্ব রাজউকের। এত বড় একটি ঘটনা ঘটেছে কিন্তু আমরা তাদের কাউকে দেখছি না। এটা আশ্চর্যের ব্যাপার এবং দুঃখজনক। আবারও যাতে এ ঘটনা আর না ঘটে সেজন্য আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে পরিস্থিতি যেন খারাপ না হয় সেদিকে গুরুত্ব দেয়া। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা পরেও নেওয়া যাবে।’