October 23, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

জাতীয় প্রেসক্লাবের দখল নিয়ে ‍উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় প্রেসক্লাবের নবগঠিত কমিটি এবং সাবেক কমিটির মধ্যে প্রেসক্লাব দখল নিয়ে শনিবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুরনো কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে আওয়ামীপন্থি ও বিএনপিপন্থি সাংবাদিকরা এক সমঝোতা বৈঠকের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটির বৈধতা নিয়েই এ উত্তেজনার সৃষ্টি হলো।

শনিবার সকাল থেকেই আওয়ামীপন্থি নবগঠিত কমিটি জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান করে এবং নিজেদের মতো করে আলাপ- আলোচনা করতে থাকেন। এসময় বিএনপিপন্থি নেতারা তিনতলায় অবস্থান করছিলেন। নতুন কমিটির বৈধতা নিয়ে বিএনপিপন্থি সাংবাদিকদের সাবেক কমিটি প্রশ্ন তোলেন এবং তারা এ কমিটিকে কিছুতেই মানতে রাজি নন।

প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য খন্দকার গোলাম আজাদ বলেন, নির্বাচন ছাড়া নবগঠিত কমিটির যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ম বহির্ভূত। সমঝোতার জন্য একটি কমিটি করা হয়েছিল কিন্তু তারা তা মানেনি।

তিনি বলেন, আজকে তারা জোর করে ক্ষমতায় যেতে চায়। তারা তালা ভেঙেছে। কিন্তু প্রেসক্লাবের মতো একটা জাতীয় প্রতিষ্ঠানে কোনো রকম অগণতান্ত্রিকভাবে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারেন না।  এটার একটা গঠনতন্ত্র আছে।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের ডেকে বলেন, আপনারা আমাদের কোনো সংবাদ ছাপবেন না। এখানে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি। তবে ওনারা যা করছেন, তা ছাপানো না ছাপানো আপনাদের ইচ্ছা।

জানা যায়, দুপুরের দিকে বিএনপিপন্থি সাংবাদিকরা প্রেসক্লাবের তিনতলায় এক সভায় মিলিত হয়। সভাশেষে শওকত মাহমুদ এবং রুহুল আমিন গাজীর নেতৃত্বে একদল সাংবাদিক দোতলায় সম্পাদকের কক্ষের সামনে গেলে দুপক্ষ মুখোমুখি হয়। এসময় সম্পাদকের কক্ষের দরজা এবং জানালা খোলা দেখলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ ‘রাজাকারের আস্তানা প্রেসক্লাবে হবে না’ স্লোগান দিতে থাকলে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। নতুন কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে বিএনপিপন্থি সাংবাদিকসহ প্রেসক্লাবের ভেতর অবস্থানরত সবাইকে বের করে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, সমঝোতার মধ্য দিয়ে আমরা একটি সমাধানের দিকে এগুচ্ছিলাম। কিন্তু ইকবাল সোবহানের নেতৃত্বে আওয়ামী পন্থিরা সে সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দিয়ে অগণতান্ত্রিকভাবে একটি কমিটি গঠন করে। যা আমরা ইতোমধ্যে অবৈধ ঘোষণা করেছি। আমরা এখনও বিশ্বাস করি, প্রেসক্লাবের গণতন্ত্র রক্ষার্থে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই নির্বাচনে সদস্যদের ভোটে যে যারা নির্বাচিত হবেন, তারাই প্রেসক্লাবের সার্বিক দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য, জাতীয় প্রেসক্লাবের নতুন কমিটিতে মুহাম্মদ শফিকুর রহমানকে সভাপতি এবং কামরুল ইসলাম চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে নতুন কমিটি করা হয়। আগের কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার প্রায় ছয় মাস পর বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি সাংবাদিকদের মধ্যে এক সমঝোতা বৈঠকে ১৭ সদস্যের একটি কমিটির মনোনয়ন দেওয়া হয়।

এ সময় জানানো হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে এ কমিটি পাস করিয়ে নতুন কমিটির হাতে প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু সেটি না করেই সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে নতুন কমিটি বৈঠক করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।