October 23, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

মোদির ঢাকা সফরে নতুন অধ্যায় উন্মোচনের অপেক্ষায় দিল্লী

কুটনৈতিক প্রতিবেদক : নতুন অধ্যায় উন্মোচনের অপেক্ষায় ৬-৭ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের আগে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে খুঁটিনাটিসহ সব আলোচ্যসূচি। সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন ছাড়াও বন্দর ও নৌ-পথে বাণিজ্য, পানিবণ্টন এবং মানবপাচার বন্ধে পদক্ষেপকে মোদির সফরে প্রধান এজেন্ডা ঠিক করেছে নয়াদিল্লী।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জাহাজ পরিবহন বিষয়েও একটি চুক্তির খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। এর ফলে দু’দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন আরো সহজ হবে বলে মনে করছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় অবশ্য এ সংক্রান্ত চুক্তির খসড়ায় আগেই অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকাকে মোদি বলেছেন, বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও তাদের কাছে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। পারস্পরিক সম্পর্ক আরো মজবুত করার জন্য উন্নয়নই একমাত্র হাতিয়ার হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সীমান্তবতী এলাকায় যেখানে যেখানে চেকপোস্ট, ল্যান্ড কাস্টমস আছে সেখানেও দ্রুত সড়ক তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় বলছে, দক্ষিণ এশিয়ায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশই ভারতের সব চেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী। তাই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী ভারত।

মোদি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সীমান্তচুক্তি সম্পন্ন হবে এবারের আলোচনায়। দেশের সবগুলো দলের সাথে কথা বলেই এই চুক্তি অনুমোদন করা হয়েছে। সবার সম্মতিতেই দীর্ঘ সময় ধরে চলা সীমান্তচুক্তি নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটানো হয়েছে।

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে দিল্লী। যোগাযোগ বাড়াতে পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরা সরকারের সহযোগিতায় কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে আগরতলা পর্যন্ত তৈরি হয়েছে নতুন বাসরুট।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তচুক্তি নিয়েও কথা হয়। সীমান্ত সমস্যা মিটে গেলে দুই দেশের সম্পর্ক আরো মজবুত হবে বলেও মনে করেন মোদি।

বৈঠকে মানবপাচার বিরোধী একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়াও অনুমোদন করে করে মন্ত্রিসভা। এতে করে দুদেশের মধ্যে চলমান গোলযোগের অবসান হবে বলেও জানান তিনি।

মোদির এবারের বাংলাদেশ সফরে সঙ্গী হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে স্থলসীমান্ত এবং তিস্তা চুক্তি নিয়েও আলোচনা হবে বলেও জানা যায়। তবে সেটা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো আলোচনা হবে না। এমনকী কোনো যৌথ বিবৃতিতেও তিস্তার কথা উল্লেখ থাকবে না।

গঙ্গা এবং তিস্তা ছাড়া আরও যে ৫৪টি নদীর পানিবণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। তার সবই খতিয়ে দেখার আশ্বাস ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া হতে পারে। এই বিষয়গুলিকে যৌথ নদী কমিশনের আওতায় নিয়ে আসারও চেষ্টা করা হবে।