September 19, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

কালো টাকাকে অর্থনীতির মূলধারায় চান ড. দেবপ্রিয়

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য মনে করেন, দেশের টাকা দেশে রাখতে ও বিনিয়োগ বাড়াতে অপ্রদর্শিত অর্থকে (কালো টাকা) অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে। এ জন্য অপ্রদর্শিত অর্থ আইন ও বেনামি সম্পত্তি আইন করা দরকার।

সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সিপিডি  আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০১৪-১৫ তৃতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, বাংলাদেশে অনেক মানুষই তাদের বৈধ আয়কে বিভিন্ন কারণে প্রদর্শন করেন না। অনেকে আবার দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হন। প্রতি বছরের বাজেটে উভয়ের জন্য একটি সাধারণ নীতিমালা করে এ টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে অসৎ পথে টাকা উপার্জনকারীদের সংখ্যা বাড়ে। আর যারা নিয়মিত কর দেন তারা নিরুৎসাহিত হন।

তাছাড়া অপ্রদর্শিত আয় প্রতি বছরের বাজেটে বৈধ করার প্রক্রিয়াটিও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করেন তিনি।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ নিয়ে সুনিদিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে তা পাচার হয়ে যায়। অনেকে আবার বেনামী সম্পত্তি গড়েন। ফলে এ টাকা দেশে উপার্জিত হলেও তা অর্থনীতির মূলধারায় আসে না। এ টাকাকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসতে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার জন্য ও বেনামি সম্পত্তির জন্য পৃথক আইন প্রণয়ন করা দরকার।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত নয় উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, যেকোনো দেশের অর্থনীতি তাদের সম্ভাবনা অনুযায়ী বিকাশ হলেই যথার্থ বলা যায়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনার তুলনায় কম। বৈদেশিক রেমিটেন্স, মাথাপিছু আয়ে প্রবৃদ্ধি, ব্যাংকে সুদের হার কম, বাজেট ঘাটতি সন্তুষজনকসহ অর্থনীতির ইতিবাচক দিকগুলো কাজে লাগাতে পারলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ সম্ভব।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে অর্থনীতির যে গতি শুরু হয়েছিল তা ২০১২ সালের পর আবার কিছুটা থমকে দাঁড়িয়েছে। পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ঘাটতি অনেক বেড়ে গেছে। আর্থিক পরিকল্পনায় গুণগত মান কমে গেছে। ফলে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অনেক বিষয় বাস্তবায়ন হয়নি।

৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবারের বাজেটে পরিকল্পনা নিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, উচ্চবিলাসী চিন্তা বাদ দিয়ে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিরাষ্ট্রীয়করণ করতে হবে। রাজস্ব বাড়াতে সম্পদের ওপর কর আরোপের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রণয়ন ও উত্তরাধীকারী সম্পদে কর নির্ধারণ করতে হবে।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির যে সম্ভাবনা রয়েছে তা বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক সংস্কার অনেক বেশি প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। তাই রাজনীতির সব পক্ষকে এক হতে হবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. তৌফিকুল ইসলা। এ সময় সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমসহ সংগঠনটির বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।