October 24, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

সমকামিতা সারাতে সংশোধনী ধর্ষণ !

বিদেশ ডেস্ক : সন্তানদের ‘সোজা পথে’ আনার জন্য তাদের ধর্ষণ করাচ্ছেন বাবা-মা! হ্যাঁ, ঠিক এই ধরণের নৃশংস, আমানবিক আচরণের শিকার হতে হচ্ছে এ দেশের বহু সমকামী মানুষদের।

তেলেঙ্গানার এলজিবিটি কালেকটিভ-এর ক্রাইসিস ইন্টারভেনশন টিমের পেশ করা স্ট্যাটিসটিক্স অনুযায়ী গত পাঁচ বছরে অন্তত ১৫টি এমন ‘সংশধোনী ধর্ষণ’-এর ঘটনা ঘটেছে। এই সমস্ত ক্ষেত্রে সন্তানদের ‘সমকামিতা’ সারানোর জন্য সন্তানদের ধর্ষণ করিয়েছেন বাবা-মা।

”আমরা নিশ্চিত, এই ধরণের ঘটনার আসল সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি। কিন্তু সেগুলির অভিযোগ নথিভুক্ত নয়।” জানিয়েছেন ক্রাইসিস ইন্টারভেনশনের সদস্য বৈজন্তী মোগিল। তিনি বলেছেন ”এই নৃশংস ঘটনাগুলি আমরা জানতে পেরেছি কারণ ভুক্তভোগীরা নিজেদের বাড়ি থেকে পালানোর জন্য আমাদের সাহায্য চেয়েছিলেন। বেশিরভাগই ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি পর্যন্ত।”

‘সংশোধনী ধর্ষণ’-এর পিছনে যেহেতু বাড়ির লোকজনই নিযুক্ত তাই, নিগৃহীতরা শঙ্কায়, আতঙ্কে আইনি সাহায্যের দ্বারস্থ হতে পারেননি পর্যন্ত। ”নিজের ভাই, তুতোভাইদের ধর্ষক হিসেবে অবতীর্ণ হতে দেখে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন নিগৃহীতরা। স্মৃতি থেকে এই ভয়াবহ ঘটনা মুছে ফেলতে তাঁরা এখন পরিবারের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছেন। এই কারণেই এ ধরণের ঘটনা নথিভুক্তও হচ্ছে না।” মন্তব্য বৈজন্তীর।

এই ধরণের ‘সংশোধনী ধর্ষণ’-এর ক্ষেত্রে বাবা-মা সবটুকুই জানেন। ‘সমকাম’ সারিয়ে তুলতে পরিবারেরি কেউই ধর্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।

দক্ষিণ ভারতের কিছু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে তুতোভাই-বোনদের মধ্যে বিয়ে খুব সাধারণ ও স্বাভাবিক একটি ঘটনা। অনেক সময়, জন্মের পরেই বাবা-মাই তাঁদের কন্যা সন্তানের বিয়ে কোনও তুতো ভাইয়ের সঙ্গে ঠিক করেন। এক্ষেত্রে মেয়েটি যদি সমকামি হয় এবং পরিবার তা জানতে পারে, পরিবারের তরফ থেকে মনে করা হয় ‘ভাবী’ স্বামীর সঙ্গে জোর কএও সহমিলন এই ‘রোগ’ সারিয়ে তুলতে পারে।

হায়দরাবাদি চলচ্চিত্র নির্মাতা দীপ্তি তাড়ানকির নয়া সিনেমা ‘সত্যবতী’-র বিষয় বস্তু এই ‘সংশোধনী ধর্ষণ’। বাস্তবের কিছু ভয়াবহ ঘটনার উপর ভিত্তি করে এই সিনেমাটি তৈরি হয়েছে। ”আমি যখন এই সিনেমাটির বিষয় নিয়ে রিসার্চ করছি, তখন এই ‘সংশোধনী ধর্ষণ’ সংক্রান্ত ভয়াবহ দু’টি ঘটনা জানতে পারি। প্রথম ঘটানাটিতে সমকামি একটি মেয়েকে ‘সারিয়ে’ তোলার জন্য পরিবারের সম্মতিতে তাঁর তুতোভাই তাঁকে ধর্ষণ করে। অন্যদিকে, সমকামি এক যুবককে ‘স্ট্রেট’ করে তুলতে নিজের মায়ের সঙ্গে যৌন মিলনে বাধ্য করা হয়। আমি নিগৃহীতদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি, কিন্তু তাঁরা কেউই মুখ খুলতে রাজি ছিলেন না।” জানিয়েছেন দীপ্তি।