September 24, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বার্সার ট্রেবল জয়

ক্রীড়া ডেস্ক : চ্যাম্পিয়ন্স লীগের উত্তেজনাকর রাতের ফাইনালটি শেষ পর্যন্ত আলোকিত হলো বার্সেলোনার মোহময় ফুটবল যাদুতে। জুভেন্তাসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে এই মৌসুমে ট্রেবল শিরোপা ঘরে তুলে নিল বার্সা।

শনিবার রাতে জার্মানির বার্লিন মাঠে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ছাড়া চলতি মৌসুমে কোপা ডেল রে এবং লা লিগাও জিতেছে বার্সা। আর এটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগে দলটির ৫ম শিরোপা।

রাতের ম্যাচে বার্সেলোনার হয়ে গোল করেছেন ইভান রেকিটিচ, লুইস সুয়ারেজ ও নেইমার। আর জুভেন্টাসের হয়ে একমাত্র গোলটির দেখা পান মোরাতা।

এর আগে এক ম্যাচে জাদুকরী এক গোল করে গত সপ্তাহ ধরে আলোচনায় থাকা লিওনেল মেসি এই ম্যাচে গোলের দেখা না পেলেও মাঠে তার আধিপত্য ছিল দেখার মতো।

অন্যদিকে প্রথম দল হিসেবে ছয় ছয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনাল খেলে প্রতিবারই হেরে গেল জুভেন্টাস।

বার্সেলোনার কোচ লুইস এনরিক শুরুর একাদশে মাঠে পাঠান টার স্টেগেন, দানি আলভেজ, জেরার্ড পিকে, মাসচেরানো, জরদি আলবা, বাসকুয়েটস, ইভান রেকিটিচ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ আর নেইমারকে। ৪-৩-৩ ফরমেশনে এনরিক তার শিষ্যদের খেলাতে থাকেন।

এদিকে, জুভি কোচ ম্যাসিমিলানো আল্লেগ্রি তার শিষ্যদের শুরুর একাদশে ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলাতে থাকেন। শুরুর একাদশে সিরি’আ জয়ীদের হয়ে মাঠে নামেন বুফন, লিস্টসটেনিয়ার, বারগাজলি, বনুচ্চি, এভরা, আন্দ্রে পিরলো, মারচিশিও, পল পগবা, ভিদাল, কার্লোস তেভেজ এবং মোরাতা।

ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই লিড নেয় কাতালানরা। জুভিদের ডি-বক্সে বাড়ানো বল পান বার্সা দলপতি আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। কাতালান অধিনায়ক বল বাড়িয়ে দেন ইভার রেকিটিচের দিকে। আর তা থেকে গোল করতে ভুল করেননি রেকিটিচ। ফলে, ১-০তে এগিয়ে যায় কোপা দেল রে’র শিরোপাধারীরা।

দুই মিনিট পরেই খেলার ১৫তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পায় বার্সা। দানি আলভেজের শক্তিশালী শটটি এক হাতে রুখে দেন জুভিদের গোলবারের অতন্দ্র প্রহরী বুফন। আলভেজের শটটি ডিফেন্স চেরা হলেও দারুণ দক্ষতায় ঝাঁপিয়ে পরে কাতালানদের দ্বিতীয় সাফল্য বঞ্চিত করেন বুফন।

২০ ও ২৪ মিনিটের মাথায় বার্সার ডি-বক্সে আক্রমণ শানে জুভিরা । অতিরিক্ত চাপ নিয়ে খেলা জুভেন্টাসের দুই তারকা পগবা আর মোরাতার দুটি শটই গোলবারের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।

ম্যাচের ২৬ মিনিটে আবারও মেসি বল বাড়িয়ে দেন নেইমারকে। তবে, সেলেকাওদের সেরা স্ট্রাইকারের শটটি এতই দুর্বল ছিল যে জুভি গোলরক্ষক বুফন তা অনায়াসে গ্লাভসবন্দি করেন।

বিরতির আগে পর্যন্ত বার্সার দখলে বল ছিল ৬৮ শতাংশ। বাকি ৩২ শতাংশ বল দখলে রাখে জুভিরা। কাতালানদের ৩৫৮ পাসের বিপরীতে জুণ্টোসের পাসের সংখ্যা ছিল ১৬১টি। যেখানে প্রথমার্ধে খেলে বার্সার পাসিং সাফল্য ৯১ শতাংশ আর জুভিদের সাফল্য ৮০ শতাংশ।

বিরতির পর ম্যাচের ৪৮ মিনিটের মাথায় জাল লক্ষ্য করে বলে শট নেন সুয়ারেজ। কিন্তু গোলবারের উপর দিয়ে চলে যাবে জেনে বুফন কোনো চেষ্টাই করেননি।

ম্যাচে যখন সুয়ারেজ আর বুফনের মধ্যে লড়াই চলছিল ঠিক তখন সমতায় ফেরে জুভেন্টাস। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে মারচিশিওর বাড়ানো বল পান তেভেজ। আর্জেন্টাইন এ তারকা শট নিলেও বার্সার গোলরক্ষক টার স্টেগেন প্রতিহত করেন। তবে, ফিরতি বলটি জালে পাঠান বার্সার ডি-বক্সে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা মোরাতা।

৬৩ মিনিটে তেভেজের একটি শট গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায় আর একই মিনিটে ইনিয়েস্তার বুদ্ধিদীপ্ত একটি পাসে সুয়ারেজ পা ছোঁয়ানোর আগেই বুফনের আয়ত্বে চলে যায় বল।

ম্যাচের ৬৮ মিনিটের মাথায় মেসি জুভিদের জালে শট নিলে আবারো যাদু দেখান বুফন । জুভিদের নির্ভরতার প্রতীক বুফন ঝাঁপিয়ে পড়ে বল রুখে দিলেও ফিরতি বলে শট নেন সুয়ারেজ। জালে বল জড়ালে ২-১ গোলে লিড নেয় বার্সা।

চার মিনিট পরেই ৩-১ ব্যবধান করে ফেলে কাতালানরা। নেইমারের দারুণ এক হেড এবার প্রতিহত করতে পারেননি বুফন। তবে, ম্যাচের দায়িত্বে থাকা তুরস্কের রেফারি তৌকির চাকিরের চোখ এড়াতে পারেননি নেইমার। ব্রাজিল অধিনায়কের করা হেড থেকে জালে বল জড়ানোর আগে হাতে লাগে। হ্যান্ডবলের নির্দেশ দেন রেফারি এবং লাইন্সম্যান। ফলে, ম্যাচের ফল থাকে ২-১।

৭৮ মিনিটের মাথায় বার্সার নিয়মিত অধিনায়ক ইনিয়েস্তা মাঠ থেকে উঠে যান। ম্যাচের দায়িত্ব দেন তার বদলি হিসেবে মাঠে নামা জাভি। আর এ ম্যাচের মধ্য দিয়েই কাতালান ক্লাবটির সঙ্গে দীর্ঘ ২৪ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করতে যান জাভি। মাঠ থেকে উঠে যাওয়ার আগে জাভির হাতে শেষবারের মতো অধিনায়কত্বের ব্যান্ড পড়িয়ে দেন ইনিয়েস্তা।

ম্যাচের ৮৮ মিনিটের মাথায় সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল জুভিরা। মারচিশিওর শট রুখে দেন টার স্টেগেন। দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে তেভেজের একটি শটও প্রতিহত করেন বার্সার গোলরক্ষক।

রেফারি যখন ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজাবেন ঠিক তখনই গোল করে বসেন নেইমার। পেদ্রোর অ্যাসিস্টে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে জোরালো শটে গোল করে দলকে তৃতীয় গোল পাইয়ে দেন। আর এ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আসরে নিজের ১০ম গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক।

ম্যাচের পর স্কাই স্পোর্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্সেলোনা তারকা নেইমার বলেন, ‘অসাধারণ সব খেলোয়াড়ে ভরা অসাধারণ এক দল জুভেন্টাস। তারা নিজেদের সেরা বলে প্রমাণ করেছে। যদিও আমরা আমাদের খেলাটা খেলেই শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছি।’

তবে বার্সেলোনার আরেক গোলদাতা রেকিটিচ বলেছেন, ‘জুভেন্টাসকে হারানোটা এবার সহজই ছিল’।

রাতের এই ম্যাচের মধ্যে দিয়ে বার্সেলোনায় ক্যারিয়ার শেষ হচ্ছে জাভির। এর পর থেকে তাকে কাতারের দল আল সাদের হয়ে খেলতে দেখা যাবে।