June 17, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

পলাতক রাজাকার হাসান আলীর রায় মঙ্গলবার

আদালত প্রতিবেদক : আরেক পলাতক রাজাকার সৈয়দ হাসান আলী ওরফে হাছেন আলীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখেন তারা।

ট্রাইব্যুনাল থেকে এ পর্যন্ত আসা ১৮টি রায়ের মধ্যে চারটি মামলায় মোট পাঁচ পলাতক আসামির সাজার আদেশ হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের দেওয়া প্রথম রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার এবং নবম রায়ে একাত্তরের দুই বদর নেতা আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনের ফাঁসির আদেশ দেন। আর দ্বাদশ রায়ে ফরিদপুরের বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকন ওরফে খোকন রাজাকারেরও সর্বোচ্চ সাজার আদেশ হয়। পলাতক থাকায় এই চারজনের কেউ আপিলের সুযোগ পাননি। তবে আব্দুল জব্বারকে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন ট্রাইব্যুনাল ১।

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট ৬টি অভিযোগে হাসান আলীকে অভিযুক্ত করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে দাবি করা হয়েছে, হাসান আলীর বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগ তারা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আশা করছি তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।’

হাসান আলীর পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আবদুস শুকুর বলেছেন, ‘হাসান আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন কোনও অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আমাদের প্রত্যাশা, সব অভিযোগ থেকে খালাস পাবেন হাসান আলী।’

কিশোরগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার হাসান আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় ২০১৩ সালের ৬ জুন। তদন্ত শেষ হয় ২০১৪ সালের ২৯ জুন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় ২০১৪ সালের ২২ আগস্ট। একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শুরু হয়। একই বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে হাসান আলীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ। চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল যুক্তিতর্ক শুরু হয়।

হাসান আলীর বিরুদ্ধে মোট ছয়টি অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে এক নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে থানার সাচাইল গ্রামের পূর্বপাড়ার হাসান আহম্মেদ ওরফে হাচু ব্যাপারির বাড়িতে সাতটি ঘরে লুটপাট ও আগুন। দ্বিতীয় অভিযোগ হলো, একই থানার কোনাভাওয়াল গ্রামের শহীদ তোফাজ্জল হোসেনকে হত্যা এবং ২ জনকে অপহরণ। একই সঙ্গে তাদের বাড়িতে লুটপাট চালানো। তিন নম্বর অভিযোগে শিমুলহাটি গ্রামের পালপাড়া অত্রুর পালসহ ১২ জনকে হত্যা, ১০টি ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এরপরের অভিযোগে বোরগাঁও গ্রামের বেলংকা রোড়ে সতীশ ঘোষসহ ৮ জনকে হত্যা, ১০ জনকে অপহরণ ও আটকের উল্লেখ আছে।

পঞ্চম অভিযোগে তাড়াইল থানার আড়াইউড়া গ্রামের কামিনী কুমার ঘোষ ও জীবন চক্রবর্তীকে অপহরণের পর হত্যার অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ছয় নম্বর অভিযোগে, সাচাইল গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় রশিদ আলী ব্যাপারিকে হত্যা। এরপর ওই গ্রামের ১০০টি ঘরে লুটপাট চালানোর পর অগ্নিসংযোগ।