September 18, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

‘বিএনপি ফাঁদে পড়েছে, এখন অনেকের কাছেই কাঁদবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বগা ফান্দে পড়লে কান্দে। তেমনি বিএনপিও ফাঁদে পড়েছে, এখন অনেকের কাছিই কাঁদবে।’

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমীর মহড়া কক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত ‘বিএনপি ভারত মুখী কেন?’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সোমবার দুপুরে তিনি এ সব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মোদির সফরকে বিএনপির অভিনন্দন এবং তার সঙ্গে দেখা করা বগা ফাঁদে পড়ে কাঁদার মতো। বিএনপি আসলে ভারতমুখী নয়। বিএনপি ফাঁদে পড়েছে। এখন নিজেকে রক্ষা করার জন্য আরও অনেকের পায়ে ছুঁয়ে প্রণাম করবে। তবে এতে কোনো লাভ হবে না।’

তিনি বলেন, ‘যারা রাজনীতির নামে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করে, তারা মানুষের কাছে আতঙ্ক। তারা রাজনীতিতে বেকায়দায় থাকলেও ষড়যন্ত্রে সব সময় সোচ্চার থাকে। তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমি ৫ তারিখে নয়া দিল্লীতে ছিলাম। সেখানে একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলো, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর নিয়ে বিএনপি-জামায়াত অভিনন্দন জানিয়েছে, আপনি কী মনে করেন? এটা রিয়্যাল না ট্যাকটিক্যাল? আমি বললাম, আপনার প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর নিহিত আছে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির সফর নিয়ে বিএনপির ভাব এমন যে, আমাদের সঙ্গে একটু দেখা দিন। তারা বলছে, আওয়ামী লীগের উচিত আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা। অর্থাৎ আমাদের সঙ্গে একটু কথা কন। আমরা এত দিন যে আন্দোলন করছি, এটা ভুল করছি।’

তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করার পর বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বাংলাদেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিতের কথা বলেছি। এর উত্তরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন তিনি তার উত্তর দেননি। তিনি বললেন, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সংবাদ সম্মেলন করবেন তার কাছ থেকে জেনে নিয়েন। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের সঙ্গে বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বলেছেন আমরা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস পছন্দ করি না। অর্থাৎ আপনারা যে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জোট করে নিজেরাও জঙ্গি হয়ে গেছেন। বিএনপি যতই দেখা করুক, এই পথ না ছাড়লে আপনার কোনো গতি নেই।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, ‘বিজেপি প্রধানের সঙ্গে যতই কথা বলেন, আপনারা (বিএনপি) আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন। বিএনপি বিজেপি প্রধানের সঙ্গে কথা না বলে কথা হয়েছে বলে ঘোষণা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৬ জন কংগ্রেস ম্যানের সই জাল করে নিজেদের নামে চালিয়ে দেন। তারা আন্তর্জাতিকভাবে প্রতারক দলে রূপান্তরিত হয়েছে। এখন যতই দেখা করুন, অনুনয়-বিনয় করুন, কোনো লাভ হবে না।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিজেপি যখন ক্ষমতায় আসলো তখন বিএনপির মধ্যে উৎসবের আমেজ। বিএনপি তখন মনে করেছিলো ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সে সরকারকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেবে।’

তিনি বলেন, ‘যখন নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিলেন এবং বললেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশ রক্ষা করেছে। তখন বিএনপি চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে গেল।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া জ্বালাও-পোড়াও করলেন। আপোষহীন নেত্রী মনে করেছিলেন মানুষ হত্যা করে তিনি সরকারকে টেনে নামাতে পারবেন। কিন্তু তিনি নিজেই নেমে শূণ্য হাতে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে ঘরে ফিরে গেছেন। বিএনপির রাজনীতি এখন পথহারা পথিকের মতো। কোন দিকে যাবে বুঝতে পারছে না। কোন দিক থেকে শুরু করবে সেটাও বুঝতে পারছে না। বিএনপি নেতারা এখন প্রকাশ্যে বলা শুরু করেছে, এই বিএনপি এবং খালেদাকে দিয়ে হবে না। কারণ খালেদা জিয়া বিএনপিকে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।’

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক বলরাম পোদ্দার, আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা প্রমুখ।