October 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ফরমালিন শনাক্তে উপযুক্ত মেশিন পাচ্ছে না স্বাস্থ্য বিভাগ

বিশেষ প্রতিবেদক : দেশের বাজারে ফরমালিন শনাক্তকরণে উপযুক্ত কোনো মেশিন নেই! উচ্চ আদালতের নির্দেশে খাদ্য ও ফলমূলে ব্যবহৃত ফরমালিন শনাক্তকরণে উপযুক্ত মেশিন খুঁজে বের করার লক্ষ্যে গঠিত বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটি পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্যই জানিয়েছেন।

তারা বলেছেন, ল্যাবরেটরিতে ব্যবহৃত এইচপিএলসি (হাই পারফরমেন্স লিকুইড ক্রোমোটোগ্রাফি) মেশিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেই কেবলমাত্র সঠিকমাত্রায় ফরমালিন শনাক্ত করা সম্ভব। বর্তমানে দেশের বাজারে ফরমালিন শনাক্তকরণে বিভিন্ন কোম্পানি উৎপাদিত মেশিনের কোনোটি দিয়েই শতভাগ নির্ভুলভাবে ফরমালিন শনাক্ত করা যায় না। কেবলমাত্র এইচপিএলসি মেশিনের মাধ্যমেই নির্ভুলভাবে খাদ্যে ও ফলমূলে ফরমালিনের মাত্রা নিরূপণ করা যায় বলে সুপারিশ করেছে এই কমিটি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ল্যাবরেটরির প্রধান ডা. মো. জাফরউল্ল্যাহকে প্রধান করে গঠিত পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি সম্মিলিতভাবে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছেন। মঙ্গলবার কমিটির সুপারিশকৃত তদন্ত প্রতিবেদনটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দাখিল করার কথা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটিতে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিআইআরসি), বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির প্রধানের কাছে জানতে চাইলে তিনি তদন্ত প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে সে ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হননি।

ন্যাশনাল ফুড সেইফটি ল্যাবরেটরির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, তারা থাইল্যান্ড সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি দিয়ে ফরমালিন শনাক্ত করতে সে দেশের বাজারে কোন ধরনের মেশিন ব্যবহার করছে তা জানতে চেয়েছেন। খুব শিগগিরই চিঠির উত্তর পাওয়া যাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গত বছর-আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রাজধানীসহ সারাদেশে ফরমালিন শনাক্তকরণে ভেজালবিরোধী অভিযান চালায়। অভিযানকালে তারা বাজারে প্রচলিত জেড-৩০০ মেশিন ব্যবহার করে। ফরমালিন মেশানোর অভিযোগে ট্রাকভর্তি আম, লিচুসহ বিভিন্ন ফল ধ্বংস করা হয়। ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

এ সময় ফরমালিন শনাক্তকরণে ব্যবহৃত মেশিন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ব্যবসায়ীরা ওই সময় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, যে মেশিন দিয়ে পরীক্ষা চলছে তা বাতাসে ভাসমান ফরমালিন শনাক্ত করতে পারলেও নির্দিষ্ট একটি ফলে কতটুকু ফরমালিন রয়েছে তা নির্ণয় করতে পারে না। ব্যবসায়ীরা ওই সময় উচ্চ আদালতে মামলা ঠুকে দিলে পুলিশ অভিযান বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীকালে উচ্চ আদালত ফরমালিন শনাক্ত করার উপযুক্ত মেশিন খুঁজে বের করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রদান করেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ল্যাবরেটরির প্রধানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

বর্তমানে বাজারে আম, লিচু, কাঁঠাল ও জামসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফলের ছড়াছড়ি। মেশিন নিয়ে জটিলতা না কাটায় সাধারণ মানুষ জানতেও পারছে না কোন ফল ফরমালিনযুক্ত আর কোনটাতে ফরমালিন নেই।