September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

আসছে মীন সন্ধানী: বাড়বে সামুুদ্রিক মৎস্য আহরণ

নজিস্ব প্রতিবদেক : বিশাল সামুদ্রিক এলাকায় মৎস্য সম্পদ জরিপের জন্য ‘আরভি মীন সন্ধানী’ আসছে আগামী মাসে। এখন সি ট্রায়ালের অপেক্ষায় রয়েছে জাহাজটি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এটি দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে আনা সম্ভব হবে।

ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) অর্থিক সহায়তায় মালয়েশিয়া থেকে ৪০ মিটার লম্বা ওই সার্ভে জাহাজটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৬৬ কোটি টাকা।

মৎস্য অধিদপ্তরের বাংলাদেশ মেরিন ফিসারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক এবিএম আনোয়ারুল ইসলাম নিউজবাংলাদেশকে জানান, এ প্রকল্পের আওতায় ৪০ মিটার লম্বা একটি সার্ভে জাহাজ (আরভি মীন সন্ধানী) তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। যা আগামী মাসে দেশে এসে পৌঁছাবে। মে মাসের প্রথম দিকে (৬ থেকে ১০ তারিখ) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ দল মলিয়েশিয়া সফর করে জাহাজটি পরিদর্শন করেছে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের মিঠা পানিতে যেখানে ২৫০ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়, সেখানে বঙ্গোপসাগরে রয়েছে প্রায় ৪৭৫ প্রজাতির মাছ। প্রতি বছর সাগরে ৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন মাছ ধরা পড়ে। এরমধ্যে মাত্র ০ দশমিক ২৯ মিলিয়ন টন মাছ মৎস্যজীবীরা আহরণ করে। বড় ট্রলারের সংখ্যা কম হওয়ায় বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ হাজার ছোট ট্রলার ও নৌকা মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ১লাখ ১৮হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটারের অধিক টেরিটোরিয়াল সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক (ইইজেড) অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল (১ নটিক্যাল মাইল= ১.১৫ মাইল) পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের উপর অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র আরও জানায়, ষাটের দশকে জাপানের সহায়তায় বাংলাদেশের সামুদ্রিক মৎসের প্রজাতি, পরিমাণ, মজুদ এবং আহরণের বিষয়ে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ অংশে জরিপকাজ পরিচালনা হয়েছিল। দেশ স্বাধীন হলে রাশিয়া সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পরে একটি ট্রলার বহরের মাধ্যমে উপকুলীয় ২শ নটিক্যাল মাইল বা ইইজেড এলাকায়  জরিপ চালায়। জরিপে দেখা যায়, এতে ৪৭৫টি সামুদ্রিক মাছ, ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি ও ৪টি মৎস্য বিচরণ কেন্দ্র রয়েছে।

১৯৮৩-১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (এফএও) সহায়তায় আরভি অনুসন্ধানী ও এমভি মাছরাঙ্গা দিয়ে জরিপ চালায়।  তবে এর ফলাফল আসে এর আগে মৎস্য বিজ্ঞানী ড. ওয়েস্টের চালানো জরিপের মতোই। ২০০০ সাল পর্যন্ত ওই হিসাবের চলছিল তথ্যেই চলছিল সবকিছু।

জরিপ জাহাজ এমভি মাছরাঙ্গা অকেজো হয়ে পড়ায় নতুন করে আর কোনো আরভি জরিপ চালানো হয়নি বলে মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

প্রকল্প পরিচালক আরো বলেন, সার্ভে জাহাজ ‘আরভি মীন সন্ধানী’ আমাদের হাতে আসার পরেই আমরা দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে মাসুদ্রিক সৎস্য সম্পদ জরিপ কাজ শুরু করবো। এ জাহাজ দিয়ে পরবর্তী ২ বছর সমুদ্রে অনুসন্ধান করে মৎস্য আহরণের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে। এর ফলে সমুদ্রে পরিমিত মৎস্য আহরণে মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সার্ভে শেষে আমরা জানতে পারবো উপকূলীয় সমুদ্র সীমানায় কী পরিমাণ মাছের মজুদ রয়েছে এবং প্রতিবছর কী পরিমাণ সংগ্রহ করা যাবে।”

তিনি আরও জানান, সর্বশেষ ১৯৮৭ সালের জরিপের ওপর ভিত্তি করেই এখনো মাছ ধরা হচ্ছে। তবে এর পরেও বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে জরিপ হয়েছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আশার কথা হলো, নয়া জরিপ জাহাজ সংগ্রহ করা হলে আগামী ২৫ বছর আর কোনো চিন্তা না করলেও হবে। এ জাহাজ দিয়েই সব ধরনের জরিপ চালানো সম্ভব হবে বলেও প্রকল্প পরিচালক উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৬ মে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর পরীক্ষামূলক পরিদর্শনকালে জাহাজটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। তার মালয়েশিয়া সফর ৬ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত হলেও তিনি ১০ মে দেশে চলে আসেন। নষ্ট ইঞ্জিনের জাহাজ নেবেন না বলে লোকাল এজেন্টকে অর্ডার বাতিল করতে বলেন মন্ত্রী। পরে জাহাজটির বিকল ইঞ্জিন সারিয়ে একে কার্যক্ষম করা হয়।