June 25, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

এ্যাকোর্ড-এ্যালায়েন্স এখন গলার ফাঁস : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য এ্যাকোর্ড-এ্যালায়েন্স এখন গলার ফাঁস হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সোমবার সচিবালয়ে দেশের বস্ত্র খাতের তিনটি সংগঠনের (বিজিএমইএ-বিকেএমইএ-বিটিএমএ) সঙ্গে বাজেট-পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মতবিনিময় সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মোঃ আতিকুল ইসলাম, বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের লক্ষ্যে কারখানার কাঠামো, শ্রমিক নিরাপত্তা ও অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে কাজ করছে ইউরোপিয়ান ক্রেতাদের সংগঠন এ্যাকোর্ড) এবং উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের সংগঠন (এ্যালায়েন্স)। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে সংগঠন দুটি বাংলাদেশের তৈরি পোষাক খাতের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে কাজ করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের জন্য বাংলাদেশে তাদের (অ্যাকোর্ড-অ্যালায়েন্স) স্বাগত জানানো হয়েছিল, কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড এখন তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ বেশ অনেকটা এগিয়ে গেছে, হতে পারে এ কারণে তারা এ শিল্পকে একটু দাবিয়ে রাখতে চাইছে।’

এ সময় অ্যাকোর্ড-অ্যালায়েন্সের কর্মকাণ্ডকে ‘দুর্ভগ্যজনক’ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে, মতবিনিময় সভার শুরুতে বিজিএমইএ সভাপতি মোঃ আতিকুল ইসলাম অ্যাকোর্ড-অ্যালায়েন্সের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘তারা যেভাবে প্রতিটি কারখানা পরিদর্শন করছে, অন্য কোন দেশে এর নজির নেই। প্রতিটি কারখানা মালিককে তাদের ইচ্ছামাফিক শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে। আর এজন্য প্রতিটি কারখানায় ব্যয় বাড়ছে ৫ কোটি টাকা থেকে ২০ কোটি টাকা। ফলে তৈরি পোশাকের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে যেসব কারখানা তাদের শর্ত পূরণ করতে পারছে না, তাদের কাছ থেকে পোশাক না কেনার জন্য ওয়েবসাইটে ক্রেতাদেরকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

বিজিএমইএ সভাপতির এসব কথার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের (অ্যাকোর্ড-অ্যালায়েন্সের) কর্মকান্ডের বিষয়ে সরকার অবগত রয়েছে। এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। অ্যাকোর্ড-অ্যালায়েন্সের সঙ্গেও আলোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনে ইউরোপের দেশগুলো সফর করা হবে।’

বাজেট-পরবর্তী আলোচনায় তিন সংগঠনের পক্ষ থেকে উৎসে কর হার বিদ্যমান দশমিক ৩ শতাংশ বহাল রাখা, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে প্রস্তাবিত ১ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার এবং বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের জন্য ১০ শতাংশ হ্রাসকৃত হারে করারোপের মেয়াদ বাড়ানোসহ ৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

এসব প্রস্তাবের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ভূমিকার কারণে পোশাক শিল্পের প্রতি সরকারের এক ধরনের সফট কর্নার রয়েছে। এ প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে গার্মেন্টস কারখানাগুলো যতদ্রুত সম্ভব মুন্সীগঞ্জের বাউশিয়ায় স্থানান্তরের জন্য আহবান জানান তিনি।