December 1, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

তৃণমূলে আ. লীগকে শক্তিশালী করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

সিলেট প্রতিনিধি : তৃণমূলে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে সিলেটের নেতাদের তাগিদ দিয়েছেন দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে বৃহস্পতিবার সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতিতে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এ বিষয়ে কথা বলেন।

স্থানীয় নেতাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “সংগঠন অত্যন্ত দরকারি। সংগঠনটা সাংগঠনিকভাবে যেন গড়ে ওঠে সেদিকে নজর দেবেন।”

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে লন্ডন থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট সকাল ১০টা ৫ মিনিটে সিলেট বিমানবন্দরে নামে।

সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা যাত্রাবিরতির সময় সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন। এ সময় দেশবাসীকে রোজার শুভেচ্ছা জানান শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান বলেন, “সংগঠনকে শক্তিশালী করা দরকার। যেভাবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সেভাবে সংগঠনকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন।”

সিলেটে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক মেসবাহউদ্দিন সিরাজ।

তিনি ভারতের স্থলসীমা চুক্তি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন অর্জনের জন্য শেখ হাসিনাকে রোজার পর সিলেটে সংবর্ধনা দেওয়ার কথা বললে জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংবর্ধনা দিতে হলে দিতে হবে তিন কন্যাকে।

সিলেটের রুশনারা আলী, পাবনার রূপা হক এবং টিউলিপ- এই তিন কন্যা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।” সম্প্রতি ব্রিটেনের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকসহ এই তিন বাঙালি পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন।

টিউলিপের নির্বাচনের সময় সিলেটবাসীর সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “টিউলিপকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানাতে পেরেছি। তার ভাষণ শুনতে পার্লামেন্টে গেছি। সত্যিই এটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমি সত্যিই টিউলিপের জন্য গর্বিত। আপনারা প্রত্যেকে তার জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।”

লন্ডন সফরকালে গত মঙ্গলবার হাউজ অফ কমন্সে টিউলিপের প্রথম বক্তৃতা শোনেন খালা শেখ হাসিনা।

দক্ষিণ এশিয়ার চার দেশের মধ্যে যান চলাচল চালু করতে সম্প্রতি ভুটানে স্বাক্ষরিত যোগযোগ চুক্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখন বাংলাদেশ থেকে ভুটানে, নেপালে গাড়িতে যাওয়া যাবে। আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।”

স্থলসীমান্ত চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “৭৫-এর পর অনেক সরকারই ক্ষমতায় এসেছিল, কিন্তু এ ব্যাপারে কেউই উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারও কোনো কথা বলে নাই।”

অন্যদের মধ্যে সিলেট সদর উপজেলার চেয়াম্যান আশফাক আহমেদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমেদও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।