October 23, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

প্রথম রমজানে লাগামহীন খাদ্যপণ্যের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক : শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। আর রমজানের রোজাকে সামনে রেখে আগে থেকেই দফায় দফায় রেড়েছে নিত্যপণ্যের দর। লাগামহীনভাবে বেড়েছে বেগুন, মরিচ, শশা ও লেবুর দর। এক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২-৩ টাকা দাম বেড়েছে পেঁয়াজ, ছোলা, তেল, চিনি। ঊর্ধ্বমুখিতে মাছ, মাংস আর সবজিও। আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে অন্যান্য নিত্যপণ্য।

পাইকারি বাজারে পণ্যের দর বাড়ার কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। খাদ্যপণ্যের বাজার অস্থিরের কারণে স্বস্তি নেই ক্রেতারা। শুক্রবার সকালে রাজধানীর শান্তিনগর, মতিঝিল ও মুগদা কাঁচাবাজার ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।

প্রথম রমজানের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বস্তি নেই। রমজান মাসে যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে সেই পণ্য বেশি বেড়েছে। বিশেষ করে ছোলা, মসুর ডাল, বুট, বেগুন, পেঁয়াজের দাম বেশ চড়া।

প্রথম রোজায় রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৪ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজও কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৬-৪০ টাকায়। এদিকে রমজানের অন্যতম উপকরণ ছোলা প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭২, বুট ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, খেসারি ডাল প্রতি কেজি ৫০-৫৫ টাকা, চিনি দুই টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৪ টাকা দরে। মসুর ডাল প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, দেশি মসুর ডাল প্রতি কেজি ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, মুগ ডাল প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে রজমানের অনুষঙ্গ বেগুনের দামে ‘আগুন’ লেগেছে। বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ৫০-৬০ টাকা, গাঁজর ৫০-৫৬ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০-৬০ টাকা, লেবু প্রতি হালি প্রকার বেধে ২৪-৪০ টাকা দরে বিক্রি করছে। আর শশা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, হাইব্রিড শশা ৪৫-৫৫ টাকা।

এছাড়াও কেজিতে ২ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। প্রতি কেজি সাদা আলু ২৪ টাকা ও লাল আলু ৩০-৩৪ টাকা। করলা ৪০ টাকা, পটল ৪০-৪৫ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকা, চিচিঙা ৪০-৪২ টাকা, পেঁপে ৩০-৩২ টাকা, লাউ ৪০ টাকা, বরবটি ৫০-৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, কচুরলতি ৪০ টাকা, কাঁচকলা প্রতি হালি ২৪-৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আঁটি লাউ শাক ১৫-২০ টাকা, লাল শাক ও সবুজ শাক ১৫ টাকা, পালং শাক ১০ টাকা, পুঁই শাক ২০ টাকা ও ডাটা শাক ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রকার বেধে কেজি প্রতি দেশি রসুন কেজি প্রতি ৭০-৮০ টাকা, মোটা রসুন ৯০-১১০ টাকা ও একদানা রসুন ১৬০ টাকা, আদা ১৪০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংসর বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস আগের বাড়তি দামে ৩৮০- ৪০০ টাকা বিক্রি করছে, খাসির মাংস বিক্রি করছে ৫৮০-৬০০ টাকায়। ছাগলের মাংস ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা।

ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করছে ১৭০ টাকায় ও লেয়ার ১৯০ টাকা, কক মুরগি ২২০-২৫০ টাকা, দেশি মুরগি ৩৩০-৩৫০ টাকায় বিক্রি করছে। ফার্মের লাল ডিম প্রতি হালি ৩০-৩২ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিম ৩৮-৪০ টাকা ও হাঁসের ডিম ৩৫-৩৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর খুচরা মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি রুই দেশি ৩৫০-৪০০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৫০, সিলভার কার্প ১৮০-২০০ টাকা, আইড় ৪৫০-৮০০ টাকা, গলদা চিংড়ি আকার বেধে ৮০০-১২০০ টাকা, পুঁটি ২২০-২৫০ টাকা, মলা ৪০০ টাকা, বোয়াল ৪৫০-৫৫০ টাকা, শিং আকার বেধে ৬০০-১২০০, দেশি মাগুর ৬৫০-৭০০ টাকা, শোল মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৩০-২২০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৯০০ গ্রামের ইলিশ মাছ বিক্রি করছে ১২০০-১৩০০ টাকায়। রাজধানীর খোলাবাজারে লিটার প্রতি বোটলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৬-১০০ টাকায়।

খেজুর : খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বড়ই খেজুর ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকায়, ডাব্বাস খেজুর ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকায়, পরিদা খেজুর (লাল) ২৫০ টাকায়, সাদা ২৮০ টাকায়, তিউনিসিয়ার খেজুর ৪০০ টাকা থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুগদা বাজারে আসা এক ক্রেতা চাকরিজীবী মো. মুনায়েম জাগোনিউজকে জানান, প্রতি বছরই রমজান মাসে মাছ, মাংস, সবজিসহ সব ধরনের পণ্য দাম বেড়ে যায়। এবারো তাই হয়েছে। সরকারের নিয়ন্ত্রণহীন বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণের হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে বলে অনেক কথা বলে কিন্ত বাস্তবে এর কোনো প্রয়োগ নেই।