September 24, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

মিরপুরে মেলবোর্নের মধুর প্রতিশোধ

ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ অভিষেক ম্যাচেই মুস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিং তোপে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় পেলো টাইগার খ্যাত বাংলাদেশ। এ জয় যেনো শুধু জয় নয়, এ যেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পরাজয়ের প্রতিশোধ।

মেলবোর্নে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আম্পায়ারের বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্তে হারতে হয়েছিলো বাংলাদেশকে। সেই হারের ক্ষতকে পুষিয়ে নিতে যেন মরিয়া হয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। মিরপুরেই সেই প্রতিশোধ নিল বাংলাদেশ টাইগাররা।

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের হারের পর বাংলাদেশ ঘরের মাঠে খেলেছিল পাকিস্তান। সেই সিরিজেও পাকিস্তানকে বাংলাওয়াশ করেও যেন জ্বালা মিটছিলো না টাইগারদের। পাকিস্তানকে বাংলাওয়াশ করে যেন ভারতের জন্য হোমওয়ার্ক সেরে রেখেছিলো টাইগাররা। এবার ভারতকে পেয়ে নিজেদের উন্নতি দেখালেন মাশরাফি বাহিনী।

বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন যে কোন দলকেই হারাতে পারে এই হুঙ্কার অনেক আগেই দিয়ে আসছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি। এবার শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে মাঠেই আরো একবার প্রমাণ করলেন নিজেদের।

তামিম, সৌম্য এবং সাকিবের অর্ধশত রানের পর বাকি কাজটুকু সারেন বাংলাদেশের পেসাররা। বাংলাদেশের জয়ে মূল ভুমিকা রাখেন তরুণ উদয়মান পেসার মুস্তাফিজুর রাহমান। ৯ দশমিক ২ ওভার বল করে ৫০ রানে পাঁচ উইকেট নেন এই বাঁহাতি পেসার।

বৃহস্পতিবার টসে জিতে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩০৮ রানের টার্গেট দেয় ধোনি বাহিনীকে। জয়ের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই টাইগারদের বোলিং অ্যাকশনের সামনে চাপে পড়ে যায় ভারত। তবে এর কিছুক্ষণ পর শুরুর চাপ কাটিয়ে খেলার নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে তারা। কিন্তু সেই ফিরে আসা ধরে রাখতে পারেননি ধোনি বাহিনী।

শুরু হয় মুস্তাফিজ যাদু। নিজের পঞ্চম ওভারে বল করতে এসে মুস্তাফিজুর রহমান তুলে নেন তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট। ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে ওঠা রোহিত শর্মা মুস্তাফিজুরের বলকে তুলে খেলতে চেয়েছিলেন। মিডঅফে বাংলাদেশ অধিনায়ক সহজ ক্যাচ ধরে নিতে কোন ভুল করেননি। এরপর মুস্তাফিজুরের করা ২৩তম ওভারের শেষ বলে দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরেন নাসির হোসেন।

এরপর ভারতীয় অধিনায়ক ধোনিকে ঘূর্ণি বলে পরাস্ত করেন সাকিব আল হাসান। ধাওয়ানের দুটি সহজ ক্যাচ মিস করলেও ধোনির অপেক্ষাকৃত দুরূহ ক্যাচ ঠিকই তালুবন্দি করেছেন কিপার মুশফিকুর রহিম। ধোনির বিদায়ের পর জাদেজাকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজ করেন সুরেশ রায়না। ৬০ রানের জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটসম্যান। ভয়ংকর হয়ে ওঠা এই জুটি ভাঙ্গতে নিজের অন্যতম সেরা অস্ত্রটি ব্যবহার করেন মুস্তাফিজ। চমৎকার এক ইনসুইংয়ে বোল্ড করেন রায়নাকে। এরপরের বলে রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে মুশফিকের ক্যাচে পরিণত করে হ্যাট্রিকের সম্ভবনা জাগান এই বাঁহাতি। তবে হ্যাট্রিক করতে না পারলেও ভারতের জাদেজাকে আইট করে পাঁচ উইকেট নেবার বিরল কৃতিত্ব গড়েন মুস্তাফিজ।

এরপর ভুবেনেশ্বর কুমার শেষ প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলেও ২২৮ রানেই গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস।

৫০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার মুস্তাফিজুর রাহমান। তাসকিন ও সাকিব তুলে নেন ২টি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

বাংলাদেশঃ ৩০৭/১০, ৪৯.৪ ওভার

[তামিম ইকবাল(৬০), লিটন দাস(৮), সৌম্য সরকার(৫৪), সাকিব আল হাসান(৫২), মুশফিকুর রাহিম(১৪), সাব্বির আহমেদ(৮১), নাসির হোসেন(২৪), মাশরাফি মুর্তজা (২১), রুবেল হোসেন(৪), তাসকিন আহমেদ(২) ও মুস্তাফিজুর রহমান(০*); রবিচন্দ্রন অশ্বিন ৫১/৩, ভুবেনেশ্বর কুমার ৩৭/২ ও উমেশ যাদব ৫৮/২)।]

ভারতঃ ২২৮/১০, ৪৬ ওভার
[শেখর ধাওয়ান(৩০), রোহিত শর্মা(৬৩), বিরাট কোহলি(১), আজিঙ্কা রাহানে(৯), সুরেশ রায়না(৪০), এমএস ধোনি (৫), রবীন্দ্র জাদেজা(৩২), রবিচন্দ্রন অশ্বিন(০), ভুবেনেশ্বর কুমার(২৫*), মোহিত শর্মা(২২) ও উমেশ যাদব(২); মুস্তাফিজুর রহমান ৫০/৫, সাকিব আল হাসান ৩৩/২, তাসকিন আহমেদ ২১/২, মাশরাফি মুর্তজা ৫৩/১;]

ফলাফল : বাংলাদেশ ৭৯ রানে জয়ী