January 29, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

যশোরে পুলিশের গুলিতে আহত ৫

যশোর প্রতিনিধি : যশোরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ আহতদের যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন মুন্সিগঞ্জের লৌহজং দক্ষিণ মেহেনীপুরের আবু তাহেরের ছেলে আব্দুল হাই (৪০), খুলনা ডালমির পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার আকবর আলীর ছেলে ফারুক ওরফে বাদশা (৪৫), ঢাকার সাভার বারকুদা এলাকার নবাব আলীর ছেলে আনিসুর রহমান (৪২), ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার উত্তর চেচরি এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে হাসান (২৪) এবং সিলেটের সিলাঘাট এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে রাজিব হোসেন (২৯)।

যশোর পুলিশের মুখপাত্র (সহকারী পুলিশ সুপার) মীর সাফিন মাহমুদ দবি করেন, বৃহস্পতিবার রাতে যশোর-মাগুরা সড়কের খাজুরা এলাকায় ডিবি পুলিশের পরিচয়ে একদল সন্ত্রাসী চেকপোস্ট বসায়। এখবর জানতে পেরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালায়। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা পুলিশের ওপর গুলি ছোঁড়ে। পুলিশও পাল্টা ছুঁড়লে সন্ত্রাসীদের মধ্যে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়। কয়েকজন পালিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, গুলিবিদ্ধরা সকলে ডাকাত ও সন্ত্রাসী।

তাদের পুলিশ প্রহরায় যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

‘সন্ত্রাসীদের’ গুলিতে খাজুরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ চারজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন জানান মুখপাত্র।

তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থল থেকে ডিবি পুলিশের পোশাক, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাপ উদ্ধার করা হয়।

হাসপাতালে ভর্তি গুলিবিদ্ধরা দাবি করেন, তারা খুলনার জনৈক শামিমের আমন্ত্রণে ঢাকার জনৈক রিপনের সঙ্গে গত ১৬ জুন সুন্দরবন দেখার উদ্দেশ্যে খুলনা আসেন। তারা খুলনার আবাসিক হোটেল সানডে ইন্টারন্যাশনালে উঠেন। সেখানে দুদিন থাকার পর ১৮ জুন সকালে নোয়াহ মাইক্রোবাস যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। বৃস্পতিবার সকালে খাজুরা পুলিশ ফাঁড়ির কাছে পৌঁছুলে পুলিশ তাদের গতিরোধ করে। এরপর তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ কিছু না পেয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে তারা খাজুরা পাম্পে ঢোকেন তেল নেওয়ার জন্য। তেল নিয়ে চলে যাওয়ার সময় পুলিশ আবার তাদেরকে আটক করে। এসময় খুলনার শামিম ও ঢাকার রিপনসহ মাইক্রোবাসে মোট আটজন ছিলেন। আটকের পর শামিম, রিপনসহ তিনজন পুলিশের সঙ্গে গোপন আলাপ করে। পুলিশ মাইক্রেবাসসহ পাঁচজনকে আটক করে খাজুরা ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। সারাদিন ফাঁড়িতে আটক রাখার পর বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ২টার দিকে একটি মাঠের মধ্যে নিয়ে পুলিশ তিনজনের পায়ে একজনের হাতে গুলি করে ও একজনের হাত ভেঙে দেয়। গুলিবিদ্ধ চারজন ও আহত একজনকে আটক অবস্থায় যশোর আড়াইশ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।