September 17, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

আনসারুল্লাহ নয়, হত্যার হুমকি দিচ্ছে জামায়াত!

বিশেষ প্রতিবেদক : নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিম এর নাম করে জামায়াত দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হ্ত্যার হুমকি দিচ্ছে। সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) ও তথ্যমন্ত্রী সহ ২৫ জনকে হত্যা-হুমকির চিঠিটি রাজনৈতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ পাঠিয়েছে। সংগঠনটি নিজেদের ‘সরকার বিরোধী’ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এ কৌশল হাতে নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল একটি সূত্র একথা জানিয়েছে।

এ বছরের ১৬ জুন দুপুরে ঢাবি ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের অফিসে অজ্ঞাত স্থান থেকে চিঠিটি আসে। এতে ভিসি, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ ২৫ জনকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। চিঠিতে প্রেরকের স্থানে কিছু লেখা না থাকলেও প্রাপকের জায়গায় ঢাবি ভিসির নাম লেখা ছিল।

এ ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ঢাবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম আমজাদ আলী। চিঠি বিশ্লেষণ ও ইন্টেলিজেন্স এর তথ্য কালেকশনের পর ঘটনাটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, এর আগেও দুবার আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-১৩’র নামে হত্যার হুমকি দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে চিঠিগুলোর ধরণ ও কারণ ছিল ভিন্ন। আগের চিঠিগুলোতে ইসলামী বিদ্বেষপূর্ণ কথার প্রতিবাদে হত্যার হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে এবারের চিঠিতে ধর্মের চেয়ে বেশি ‘সরকার বিরোধী’ তৎপরতা ও ‘ভারতের দালালির’ কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে হুমকির তালিকায় থাকা বাকিরা হলেন- সাংবাদিক আবেদ খান, মুন্নী সাহা, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, নবনীতা চৌধুরী, শ্যামল দত্ত, শাহীন রেজা নুর, অঞ্জন রায়, ঢাবির অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক জাফর ইকবাল, এআইইউবির শিক্ষক আরাফাত রহমান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাহরিয়ার কবির, নাসির উদ্দিন বাচ্চু, রামেন্দু মজুমদার, সঙ্গীতা ইমাম, নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, গণজাগরণ মঞ্চের ইমরান এইচ সরকার, কামাল পাশা চৌধুরী, মাহমুদুল হক মুন্সী বাঁধন, এস এম শাহীন, ব্লগার কানিজ আকলিম সুলতানা, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পা দিত্য বসু ও মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক।

সূত্র আরো জানায়, চিঠি পাওয়ার পর হত্যার হুমকিপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের প্রোফাইল যাচাই বাছাই করা হয়েছে। চিঠিতে তাদের ‘ধর্মবিরোধী’ উল্লেখ করা হলেও তাদের কেউই গণমাধ্যম কিংবা অন্য কোথাও প্রকাশ্যে ইসলাম বিদ্বেষী কোন কথা বলেনি। তাই ধারণা করা হচ্ছে এটি জামায়াতে ইসলামীর কাজ।

কেন জামায়াতে ইসলামী এমন কাজ করবে জানতে চাইলে সূত্রটি জানায়, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করেছে। কোন ধরণের নাশকতা বা সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডে রাজনীতি থেকেও নিষিদ্ধ হতে পারে দলটি। হরতালের মতো কর্মসূচিতেও তারা নাশকতা করতে পারছে না। পাশে পাচ্ছে না বিএনপিকেও।

তাই নিজেদের সরকার বিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে তারা এমন একটি সংগঠনের নাম বেছে নিয়েছে যারা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

বিষয়টি অস্বীকার করে জামায়াতের নীতি নির্ধারণী ফোরামের একজন সদস্য জানান, জামায়াত নেতাদের বিচার একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তারা সবসময় ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছিলেন। এই রাজনৈতিক বিচার ঠেকাতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন চলছে, চলবে। তবে চিঠির বিষয়টির সঙ্গে জামায়াতের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।

এদিকে হুমকির ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় করা জিডির তদন্তে তেমন কোন অগ্রগতি নেই পুলিশের। জানতে চাইলে জিডির তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার অপারেশন অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ ঘটনায় কাউকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। গ্রেফতার কিংবা আটকও নেই। তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।’