June 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

চাপ থাকলেও জামায়াত ছাড়ছে না বিএনপি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : জামায়াত ছাড়ার চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে বিএনপিতে। জামায়াতের শীর্ষ নেতারা যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হওয়া এবং গত বছর ও এ বছরের ৫ জানুয়ারির আন্দোলনে জামায়াতের জোরালো ভূমিকা না থাকায় এ দাবি আরো জোরালো হয়েছে। এমন কি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে জামায়াত ছাড়ার ইস্যুতে বিএনপির অবস্থান এখনও পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে কৌশলী অবস্থান নিয়েছে দলটি।

দলটির বর্তমান মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, “২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দিতে আন্তর্জাতিক কোনো চাপ নেই। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ভোটের। এই জোটে আন্দালিব রহমান পার্থের বিজেপিও আছে। সাম্যবাদী দলও আছে। তারা তাদের রাজনীতি করে। আর আমরা জিয়াউর রহমানের দর্শনের রাজনীতি করি।”

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারাও এ জোট সম্পর্কে স্পষ্ট কিছুই বলছেন না। তারা মনে করছেন, জামায়াত ছাড়লে নির্বাচন ও আন্দোলনে বিএনপির ক্ষতি হতে পার। এমনকি জামায়াত পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটও বাঁধতে পারে। এসব সমীকরণের ভিত্তিতে বিএনপি এই মুহূর্তে জামায়াত সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলতে চায় না।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা মনে করেন, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের কোনো আদর্শগত মিল নেই। এটা নির্বাচন কেন্দ্রীক জোট। জাতীয় নির্বাচন ও আন্দোলন ছাড়া জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির থাকা না থাকার কোনো পার্থক্য নেই।

জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের পর থেকেই বিএনপি সমালোচনার মুখে পড়েছে। এমনকি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান যখন দেশজুড়ে প্রতিনিধি সম্মেলন করেছিলেন তখন জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছিল।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের যখন গ্রেপ্তার করা হয় তখন জামায়াতের কর্মীরা দেশজুড়ে জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন শুরু করে। জোট হিসেবে এই সহিংসতার দায়ভার বিএনপির ওপরে বর্তায়।

বিএনপির কিছু নেতা মনে করেন, জামায়াত ছাড়লে বিএনপি আরো বেশি গতিশীল হবে। সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক মহল থেকে বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার পরমার্শ দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ বলেন, “জামায়াত অতীতে জোটে ছিল এখনো রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের জন্যই বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য দলের জোট।”

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেন, “জামায়াত আদর্শিক কোনো জোট নয়। এটা আন্দোলনের জোট। সুতরাং এটা সময়িক বিষয়।”

এদিকে সরকার বলছে, জামায়াত ছাড়লে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে সংলাপ হতে পারে। জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে কোনো সংলাপ হবে না।

বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী সম্প্রতি বছেনে, “বিএনপিকে বাঁচতে হলে জামায়াত নির্ভরতা ছেড়ে আবারো জিয়ার আদর্শে ফিরে আসতে হবে। বিএনপি এখন জিয়াউর রহমানের আদর্শের মধ্যে নেই। তারা এখন তৃতীয় স্টেজের রাজনীতি করছে। তাদের রাজনীতি এখন সম্পূর্ণ জামায়াত নির্ভর।”

বি. চৌধুরীর মন্তব্য প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব ছিলেন। তিনি আরেকটি দল করলেও তার দর্শন জিয়াউর রহমানের আদর্শ। তার ওই মন্তব্য একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে বিএনপি জামায়াতনির্ভর দল নয়। বিএনপি জিয়াউর রহমানের দর্শন ও মূলনীতি দিয়ে পরিচালিত হয়।”

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ১৮ এপ্রিল বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে এতে কাজী জাফর আহমদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এই জোটে যোগ দেওয়া। পরবর্তীতে সাম্যবাদী দল যোগ দিলে ২০ দলীয় জোটে সম্প্রসারিত হয়।