September 19, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

তেলবাহী ওয়াগন উদ্ধারে ঢিলেমিতে সংসদে ক্ষোভ

সংসদ প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের বোয়াখালী উপজেলায় রেলসেতু ভেঙে তেলবাহী ট্রেনের দু’টি ওয়াগন খালে পড়ে ফার্নেস অয়েল পানিতে মিশতে থাকলেও তা উদ্ধারে ঢিলেমির জন্য সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। জাসদ কার্যকরী সভাপতি মইনুদ্দিন খান বাদল এ বিষয়ে বলেন, ওয়াগন উদ্ধারে যাওয়া একটি অত্যাধুনিক জাহাজের ৯ মাইল দূরত্ব পারি দিতে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগলো কেন ?

জাতীয় সংসদের বৈঠকে রোববার অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সমন্বয়হীনতার বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখার জন্য স্পিকারের কাছে রুলিং দাবি করেন। এসময় বৈঠকের সভাপতিত্বে ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তবে তিনি কোনো রুলিং দেননি।

বাদল বলেন, গত ১৯ জুন চট্টগ্রামের বোয়াখালী উপজেলায় রেলসেতু ভেঙে একটি তেলবাহী ট্রেনের দু’টি ওয়াগন খালে পড়ে ফার্নেস অয়েল পানিতে মিশতে থাকে। কিন্তু ঘটনার তিনদিন পর চট্টগ্রাম পোর্ট থেকে তেল অপসারণের জন্য একটি জাহাজ ঘটনাস্থলে যায়। তবে এরই মধ্যে কর্ণফুলী হয়ে তেল হালদা নদীতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতি প্রশ্ন রেখে বাদল বলেন, ব্রিজগুলো অনেক আগে থেকেই নাজুক ছিলো। সংসদে এ নিয়ে বারবার বলার পরও এসব ব্রিজের মেরামতে কোনা বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। সারাদেশের সেতুর জন্য টাকা হয়,  বোয়ালখালী উপজেলার সেতুর জন্য একটা পয়সাও বের হয় না।

তিনি বলেন, রেলপথ মন্ত্রণালয় যদি জানতোই ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত, তাহলে কেন সেখান দিয়ে নিয়মিত রেল চলাচলের অনুমতি দিয়ে রাখা হয়েছে?

তেল অপসারণের কাজে পাঠানো অত্যাধুনিক জাহাজের সমালোচনা করে বাদল বলেন, ১৯ তারিখে ঘটনা ঘটল। আর মাত্র ৯ মাইল দূরত্ব পারি দিয়ে ঘটনাস্থলে জাহাজ পৌঁছালো ২১ তারিখ। তাও আবার গিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে, কিছু করা যায় কিনা। গেলেন তিনদিন পর, কাজ না করে দেখছেন কী করা যায়!

সংশ্লিষ্ট সবগুলো মন্ত্রণালয় ও দফতরকে দুর্ঘটনার পরপরই অবহিত করা হলেও কারও কাছ থেকে যথাযথ সাড়া  মেলেনি বলেও অভিযোগ তোলেন এ সাংসদ। যে কারণে প্রাথমিকভাবে এলাকাবাসীর সহায়তায় কলাগাছ ও খড় দিয়ে সাময়িকভাবে তেল ছড়িয়ে পড়া রোধ করার চেষ্টা করা হয় বলে জানান তিনি।